অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গণভোট আয়োজন রাষ্ট্রবিরোধীতা: সংবিধান বিশেষজ্ঞরা

লেখক: সুমিত বিশ্বাস
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

ডেস্ক রিপোর্ট | অনলাইন
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো অন্তর্বর্তীকালীন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে গণভোট আয়োজন করতে পারে না। এমন উদ্যোগ শুধু সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘনই নয়, বরং সরাসরি রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের শামিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর। এই ধরনের সরকার জনগণের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাংবিধানিক অধিকার রাখে না। রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তন, সংবিধান সংশোধন কিংবা গণভোটের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র জননির্বাচিত সংসদের।
একজন সংবিধান বিশ্লেষক জানান,
“গণভোট রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বিষয়। অনির্বাচিত বা সাময়িক সরকার এই সিদ্ধান্ত নিলে তা জনগণের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে প্রতারণা।”
রাজনৈতিক মহলেও এই বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, নির্বাচন এড়িয়ে বা পিছিয়ে দিয়ে গণভোটের মতো ইস্যু সামনে আনা হলে তা গণতন্ত্র ধ্বংসের কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তনের চেষ্টা করলে দেশে আইনগত সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট বার্তা—
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কারের নামে রাষ্ট্রের ভিত্তি নড়াতে পারে না।
গণভোট শুধু জনগণের নির্বাচিত সরকারের অধিকার।