অপারেশন ক্লিনহার্ট-এর সঙ্গে জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের বিচার চায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: ২০০২ সালের অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত হয় বহুল বিতর্কিত সামরিক অভিযান “অপারেশন ক্লিনহার্ট”। দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমনের নামে পরিচালিত এই অভিযানে শতাধিক সাধারণ মানুষ নিহত হন এবং কয়েকশত মানুষ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন উল্লেখ করে। অভিযানে অংশ নেওয়া সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে অসংখ্য নির্যাতন ও মৃত্যুর অভিযোগ ওঠলেও, ২০০৩ সালের শুরুতে একটি বিশেষ দায়মুক্তি আইন পাসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিচার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

দীর্ঘ ২২ বছর পর আবারও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নতুন করে আওয়াজ তুলেছে—তারা চায় ন্যায়বিচার, চায় দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হোক। নিহতদের স্বজনরা অভিযোগ করছেন, রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহারে তাঁদের প্রিয়জনদের হত্যা করা হয়েছে, অথচ কেউই দায় স্বীকার করেনি। তারা বলেন, একটি স্বাধীন দেশে কোনো আইনই মানবাধিকারের ঊর্ধ্বে হতে পারে না; দায়মুক্তি আইন বাতিল করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচার করতে হবে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোও একই দাবি তুলেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দায়মুক্তি আইন একটি সাংবিধানিক ব্যত্যয়, যা ন্যায়বিচারের মূলনীতির পরিপন্থী। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ অনুসারে রাষ্ট্র কোনো অপরাধের দায় থেকে কাউকে চিরস্থায়ীভাবে মুক্তি দিতে পারে না, বিশেষ করে যেখানে প্রাণহানি ঘটেছে।

অপারেশন ক্লিনহার্টের সময় গ্রেপ্তারকৃত ও নিহতদের পরিবার আজও ন্যায়বিচারের আশায় প্রহর গুনছে। অনেকে আদালতে রিট আবেদন করেছেন দায়মুক্তি আইন বাতিলের দাবিতে। সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকেও দাবি উঠছে—দীর্ঘদিনের এই অমীমাংসিত অধ্যায়টির অবসান ঘটিয়ে সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নাগরিকের জীবন ও মর্যাদা রক্ষা করা, ভয়ভীতির নয়। কোনো সরকারেরই উচিত নয় ইতিহাসের অন্যায়কে ঢেকে রাখা। অপারেশন ক্লিনহার্টের দায়ীদের বিচার না হলে, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে না। তাই এখন সময় এসেছে—দায়মুক্তি আইনের বেড়াজাল ভেঙে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ন্যায়বিচারের দাবি পূরণ করার।