অবৈধ ইউনূস সরকারের কারণে জাতিসংঘ মিশনে সংকট, আন্তর্জাতিকভাবে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি চরম চাপে

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আন্তর্জাতিক সুনাম এক সময় ছিল জাতির গর্বের প্রতীক। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে, মানবিক মূল্যবোধ ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অর্জন করেছে আস্থা ও মর্যাদা।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই অর্জন মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকারের অবৈধ কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক পক্ষপাত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশের উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর সংকট।

*অবৈধ সরকারের পরিণতি*

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহায়তায় গঠিত এই তথাকথিত প্রশাসন শুরু থেকেই বৈধতার সংকটে ছিল। ক্ষমতা দখলের পর থেকেই ড. ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, খুন এবং “আয়না ঘর” নামের বিতর্কিত আটককেন্দ্র পরিচালনার অভিযোগ ওঠে যা দেশের ভিতরে ও বাইরে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।
এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

*জাতিসংঘের অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রত্যাহার*

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বর্তমানে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক সেনা ও পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাবের কারণে জাতিসংঘের শীর্ষ পর্যায়ে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ পুনর্মূল্যায়নের আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তীব্র আপত্তির প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাংলাদেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ সদস্যকে প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে যা বাস্তবায়িত হলে এটি হবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ও সামরিক ব্যর্থতা।

*সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি সংকটে*

এক সময় বিশ্বের সবচেয়ে পেশাদার ও সুনামধন্য বাহিনীগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হতো বাংলাদেশের সেনাবাহিনী। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেনা গোয়েন্দা শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর প্রতি নীরব সমর্থনের অভিযোগ বাহিনীর ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
সেনা নিয়ন্ত্রিত আধা-সামরিক শাসনের কারণে দেশে আইনের শাসন দুর্বল হয়েছে; অপরাধী, ধর্ষণকারী ও চাঁদাবাজদের প্রতি প্রশ্রয় বেড়েছে এবং প্রতিদিনই সাধারণ মানুষ ভোগ করছে ভয় ও অনিশ্চয়তায়।

*মানবাধিকার লঙ্ঘনের আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া*

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে অবনতি হয়েছে। গুম, রাজনৈতিক বন্দি, নির্যাতন, এবং সংবাদমাধ্যম দমন এসব অভিযোগের কারণে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থা কমছে।
এই অবস্থায় জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের সদস্যদের উপস্থিতি রাখা তাদের নিজস্ব মানদণ্ডের বিরোধী বলেই মন্তব্য করছেন বিশ্লেষকরা।

এক সময় শান্তির দূত হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী এখন নিজ দেশের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার সংকটে জড়িয়ে পড়েছে।
ড. ইউনূসের অবৈধ প্রশাসন যতদিন রাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর আধিপত্য বজায় রাখবে, ততদিন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও সামরিক অংশগ্রহণ সবইঊ প্রশ্নের মুখে থাকবে।

জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্ত কেবল এক প্রশাসনের ব্যর্থতা নয়; এটি একটি জাতির মর্যাদার সংকেত যা পুনরুদ্ধার করতে প্রয়োজন গণতান্ত্রিক বৈধতা, জবাবদিহি ও জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতি শ্রদ্ধা।