নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশ গত এক দশক ধরে জঙ্গীবাদ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে বিশ্বব্যাপী প্রশংসা অর্জন করেছিল। ২০০৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত অভিযানে দেশি-বিদেশি জঙ্গী চক্র দুর্বল হয়ে পড়ে, গোষ্ঠীগুলো কার্যত কোণঠাসা হয়। তখন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।
কিন্তু ড. ইউনুস সরকার ক্ষমতায় আসার পর চিত্র পাল্টে গেছে। জামাত-শিবির, হেফাজত ও মৌলবাদী গোষ্ঠীকে কার্যত উন্মুক্ত কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, সরকারের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় জঙ্গীরা এখন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থায় অনুপ্রবেশ ঘটাতে শুরু করেছে। তাদের কার্যক্রম আর গোপন নয়, বরং “ওপেন সিক্রেট”-এ পরিণত হয়েছে।
*বিদেশি যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশের তরুণদের উপস্থিতি*
গত ছয় মাসেই পাকিস্তানের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হয়ে লড়াই করতে গিয়ে অন্তত দুই বাংলাদেশির নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এপ্রিল মাসে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সেনা অভিযানে আহমেদ জুবায়ের নামের এক তরুণ নিহত হয়। সেপ্টেম্বরে একইভাবে মাদারীপুরের ফয়সাল নামের আরেক তরুণ পাকিস্তানের টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান)-এর হয়ে যুদ্ধে নিহত হয়েছে। আবার, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশ গত জুলাইয়ে দুই সন্দেহভাজনকে আটক করে, যারা টিটিপির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল।
প্রশ্ন উঠছে কীভাবে বাংলাদেশের তরুণরা পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে?
*অর্থনৈতিক ধস ও রিক্রুটমেন্ট নেটওয়ার্ক*
অর্থনীতির ভাঙন, কর্মসংস্থানের সুযোগ হারানো এবং ভয়াবহ বেকারত্বে লক্ষ তরুণ যখন হতাশায় ডুবে যাচ্ছে, তখন জামাত-হেফাজত-শিবির নিয়ন্ত্রিত নেটওয়ার্ক তাদের সামনে মোটা অংকের টাকার লোভ দেখাচ্ছে। মাদ্রাসা ও মসজিদভিত্তিক মৌলবাদী রিক্রুটমেন্ট সেলের মাধ্যমে যুবকদের পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সিরিয়া ও লেবাননে পাঠানো হচ্ছে। তারা যোগ দিচ্ছে আন্তর্জাতিক জঙ্গী নেটওয়ার্কে।
অন্যদিকে, জামাতপন্থী ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারের বক্তব্য “দেশে কোনো জঙ্গী নেই” প্রমাণ করছে, রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতর থেকেই এখন জঙ্গী তৎপরতাকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে।
*জঙ্গী রপ্তানির কারখানায় পরিণত বাংলাদেশ*
বাস্তবতা হলো ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস করে, কর্মসংস্থান বন্ধ রেখে ইউনুস সরকার কার্যত বাংলাদেশকে একটি “জঙ্গী রপ্তানির কারখানায়” পরিণত করেছে। গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরে জঙ্গীদের অনুপ্রবেশ ঘটায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এখন ভয়ংকর ঝুঁকিতে পড়েছে।
বাংলাদেশের বর্তমান সংকট তাই শুধু অর্থনৈতিক নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য এক ভয়াবহ অশনিসংকেত।
*আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার হুমকি*
সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো জঙ্গীদের ভারতবিরোধী মনোভব হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সুযোগ পেলেই তারা ভারতের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছে। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের জঙ্গী উৎপাদনে সক্রিয় সহায়তা দিচ্ছে পাকিস্তান ও তুরস্ক।
এটি আর কেবল অভ্যন্তরীণ সংকট নয় বরং আন্তর্জাতিক চ্যানেল, বিদেশি অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে একটি পরিকল্পিত আকার নিচ্ছে। পাকিস্তানের ছায়াযুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশের তরুণদের মৃত্যু, গোয়েন্দা রিপোর্টে তুরস্ক-সংযুক্ত মহলের সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় মৌলবাদী নেটওয়ার্কের সক্রিয়তা সবই প্রমাণ করছে যে বাংলাদেশের জঙ্গী কারখানার উৎপাদন এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছে।
বাংলাদেশের মাটিতে নতুন করে মৌলবাদী শক্তির উত্থান শুধু দেশের ভেতরে নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক বার্তা বহন করছে। এই প্রবণতা থামানো না গেলে, বাংলাদেশ শুধু অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্বেই নয়, বরং আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ রপ্তানির কেন্দ্রস্থল হয়ে পড়বে যা জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক শান্তি ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য এক অশনিসংকেত।