অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কেন্দ্রে সুশাসনের ঘাটতি

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ এক গভীর সংকটে নিপতিত। মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, এবং ব্যাংকিং খাতে অস্থিতিশীলতা সব মিলিয়ে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি টালমাটাল অবস্থায়। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই সংকট আকস্মিক নয় বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত দুর্বলতা, সুশাসনের অভাব এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় দায়বদ্ধতার ঘাটতির ফলাফল।

দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক—বাংলাদেশ ব্যাংক রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতির প্রধান নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, ঋণ খেলাপি, ডলার বাজারে অস্বচ্ছতা, এবং আমদানি ব্যয়ে অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি ইঙ্গিত করছে যে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে এক গভীর বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তগুলো যদি সময়োপযোগী না হয়, বা রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত প্রভাবের কারণে পক্ষপাতমূলক হয়ে পড়ে, তাহলে পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই ভারসাম্য হারায়। ডলারের কৃত্রিম ঘাটতি, রিজার্ভ হ্রাস, ও বিনিয়োগে স্থবিরতা—সবই সেই নীতিগত দুর্বলতারই প্রতিফলন।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে এখন প্রয়োজন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা, সুশাসন এবং স্বচ্ছ সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়া। অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবশ্যই জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে—যে আস্থার ভিত্তি হবে ন্যায়, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা।

রাষ্ট্রের অর্থনীতি কখনও ব্যক্তিনির্ভর নয়; এটি প্রতিষ্ঠাননির্ভর। তাই এখন সময় ব্যক্তিকে নয়, নীতিকে দায়ী করার এবং সেই নীতিকে পুনর্গঠনের।