অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের সংকট, বিদেশি প্রভাবের ছায়ায় বাংলাদেশ

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক ::বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি সবসময় একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলেই বৈদেশিক সম্পর্ক, বিনিয়োগনীতি ও অর্থনৈতিক কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতে নতুন কিছু আলোচনা এবং সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এসব উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।

স্বনির্ভরতার পথ থেকে আমদানিনির্ভরতার দিকে

গত এক যুগে বাংলাদেশের অর্থনীতি আত্মনির্ভরতার পথে অগ্রসর হচ্ছিল—উৎপাদন, কৃষি ও শিল্প খাতকে কেন্দ্র করে টেকসই অর্থনীতি গঠনের চেষ্টা ছিল স্পষ্ট। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিবর্তনে দেখা যাচ্ছে, দেশের অর্থনীতি আবারও আমদানিনির্ভর কাঠামোর দিকে ঝুঁকছে। বিশেষ করে গার্মেন্ট শিল্পের কাঁচামাল, খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি আমদানিতে নির্ভরতা বাড়ায় বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে দেশের উৎপাদনব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা দেশের ভেতরের দাম ও সরবরাহে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো এমন যে, ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় প্রায়ই আন্তর্জাতিক সমর্থন বড় ভূমিকা পালন করে। বৈদেশিক ঋণ, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বশক্তিগুলো নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে থাকে। এ প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল রাষ্ট্রগুলো দ্রুত রাজনৈতিক নির্ভরতার ফাঁদে পড়ে যায়।

বাংলাদেশও এখন সেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি—একদিকে উন্নয়নের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন, অন্যদিকে সেই নির্ভরতা যেন সার্বভৌম নীতিনির্ধারণের স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ না করে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
ভারসাম্য

বর্তমান বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মধ্যে প্রতিযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যকে আরও জটিল করে তুলেছে। বাংলাদেশের জন্য এটি একদিকে সুযোগ, অন্যদিকে চ্যালেঞ্জ।
একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক নীতি প্রয়োজন যাতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিশ্চিত হয়, কিন্তু কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাব জাতীয় নীতি নির্ধারণে প্রাধান্য না পায়।

যে কোনো বৈদেশিক চুক্তি বা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত জনগণের জানার আওতায় আনতে হবে। উচ্চমূল্যে আমদানির চুক্তি বা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার মতো নীতিগত পরিবর্তন যদি গোপন থেকে যায়, তবে তা জনআস্থা নষ্ট করবে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও বিপন্ন করবে।

বাংলাদেশের নেতৃত্বের সামনে এখন বড় প্রশ্ন বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভর করে কি টেকসই অর্থনীতি গড়া সম্ভব, নাকি নিজস্ব উৎপাদন ও উদ্ভাবনের পথেই মুক্তি নিহিত?
জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রেখে, এবং বিদেশি সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করেই অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব।

অন্যথায় রাজনৈতিক কৌশল ও বৈদেশিক চুক্তির ভারে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে, যার বোঝা বহন করতে হবে দেশের সাধারণ মানুষকেই।