আইসিটি চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা মজুমদারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: ঢাকা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ (ICT-1)-এর চেয়ারম্যান মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারকে ঘিরে রাজনৈতিক পক্ষপাত ও বিচার বিভ্রাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে—তিনি বিচারকের নিরপেক্ষতার শপথ ভেঙে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিচার কার্য পরিচালনা করছেন, এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার লক্ষ্যে রায়ের মাধ্যমে প্রতিশোধমূলক অবস্থান নিচ্ছেন।

বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিচারপতি মজুমদারের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত শিকড় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর পিতা কবিল সরকার প্রায় তিন দশক ধরে পল্লবী মুসলিম বাজার ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে বিএনপি সমর্থক নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

একই ধারাবাহিকতায়, গোলাম মর্তুজা মজুমদার ২০১৪ সালে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাক্ষরিত বিএনপি সদস্যপদ নবায়ন করেন, যা তাঁর সরাসরি রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে। পরবর্তীতে, ২০২১ সালে বিএনপি নেতাদের স্বাক্ষরিত একটি “তথ্য সংগ্রহ ফর্ম” তিনি নিজ হাতে পূরণ করেন। এমনকি তাঁর স্ত্রীও প্রকাশ্যে বলেছেন, “তিনি বিএনপি’র একজন অঙ্গীকারবদ্ধ সমর্থক।”

আইন সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বিচারপতি মজুমদার আদালতের কার্যক্রমে দলীয় পক্ষপাতমূলক মনোভাব স্পষ্টভাবে প্রকাশ করছেন, যা বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতার জন্য গভীর হুমকি। তাঁর একাধিক রায়ে রাজনৈতিক পক্ষপাতের ছাপ স্পষ্ট, যা বিচার বিভাগের ভাবমূর্তিকে গভীর সংকটে ফেলছে।

অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি মামলায় তিনি আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধপন্থী ব্যক্তিদের প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, অথচ বিএনপি ঘরানার অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক নমনীয়তা প্রদর্শন করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে।

একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মন্তব্য করেন, “যদি একজন বিচারপতি দলের আনুগত্যে অন্ধ হয়ে যান, তবে বিচার হবে পক্ষপাতদুষ্ট, আর ন্যায়বিচার হবে প্রহসন।”

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো দাবি করেছে—বিচারপতি মজুমদারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ বিএনপি ঘনিষ্ঠ মহলের দ্বন্দ্ব আড়াল করতে চালানো রাজনৈতিক প্রচারণা। তাদের মতে, এই বিতর্কের মূল উদ্দেশ্য হলো ট্রাইব্যুনালের চলমান প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করা।

তবে আইসিটি-১ কর্তৃপক্ষ বা বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।