আউল–বাউলদের ওপর উগ্রবাদী হুমকি, রাষ্ট্রকে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে সাম্প্রতিক সময়ে তৌহিদী জনতা” নামের ব্যানারে জামাত, হেফাজত আইএস উগ্রবাদী ও মৌলবাদী জঙ্গী গোষ্ঠীর প্রকাশ্য সহিংস উস্কানি আবারও দৃশ্যমান হয়েছে। মিছিলে দাঁড়িয়ে তাদের ঘোষিত স্লোগান একটা একটা বাউল ধর, ধরে ধরে জবাই কর শুধু নৃশংসতা নয়, সরাসরি সন্ত্রাসী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। এটি রাষ্ট্রের আইন, সংবিধান ও নাগরিক নিরাপত্তার ওপর প্রকাশ্য আঘাত।

বাংলাদেশের পরিচয় বহুত্ববাদী। এই দেশ আউল বাউল, সাধক, সুফি ও অন্তর্ভেদী মানবতাবাদের চেতনায় নির্মিত। লালন, হাছন রাজা, শাহ করিম এরা শুধু সাংস্কৃতিক প্রতীক নন তাঁরা এই জাতির মানসিক পরিমণ্ডল গঠন করেছেন। সেই দেশের বুকেই আজ যদি ঘোষণা দেওয়া হয় “আউল-বাউল থাকবে না, শুধু তৌহিদী জনতা থাকবে,”
তবে এটি স্পষ্ট করে যে উগ্রবাদীরা কেবল ভিন্নমত নয়, পুরো জাতিসত্তার মনন ও ঐতিহ্যকেই নিশ্চিহ্ন করতে চায়।

এ ধরনের হুমকি কোনোভাবেই বক্তৃতার স্বাধীনতা নয় এটি সহিংসতার আহ্বান, এবং রাষ্ট্রকে এর বিরুদ্ধে সরাসরি ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু নজরদারি নয় যারা এমন উস্কানি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত, নিঃশর্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এখনই প্রয়োজন।

বাংলাদেশের শক্তি তার সহনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে নিহিত। এই বৈচিত্র্যের ওপর আঘাত মানে বাংলাদেশের অস্তিত্বের ওপর আঘাত। তাই উগ্রবাদী যেকোনো প্রবণতা দমন করা রাষ্ট্রের নৈতিক, সাংবিধানিক ও আইনগত বাধ্যবাধকতা।