আওয়ামীলীগবিহীন নির্বাচন মানেই অস্থিরতার ঝড়, স্থিতিশীলতার সামনে বড় সংকট

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাজনীতি বর্তমানে এক সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্বাধীনতার পক্ষের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামীলীগ আজও দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে আওয়ামীলীগ যে উন্নয়নধারা ও অগ্রগতি বজায় রেখেছে, তা সাধারণ মানুষের জীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন এনেছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, দারিদ্র্য হ্রাস ও ডিজিটাল রূপান্তরের সাফল্য মানুষের আস্থাকে বহুগুণে বাড়িয়ে তুলেছে। এর ফলে আওয়ামীলীগের জনসমর্থন বেড়েছে জ্যামিতিক হারে—বর্তমানে দেশের প্রায় ৫৫ ভাগ জনগণ এই দলের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

এই প্রেক্ষাপটে আওয়ামীলীগকে বাদ দিয়ে কোনো জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের চিন্তাই জাতির জন্য এক গভীর অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বয়ে আনবে। আওয়ামীলীগ কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়—এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতার প্রতীক। দলটির বিস্তৃত সাংগঠনিক কাঠামো ও গ্রামীণ পর্যায়ে গভীর ভিত্তি থাকার কারণে তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া ভোটের মাঠে সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব। আওয়ামীলীগবিহীন নির্বাচনের চেষ্টা মানেই প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর জন্য এক কঠিন ও অনিশ্চিত চ্যালেঞ্জ তৈরি করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আওয়ামীলীগবিহীন নির্বাচনে অন্তত ১৩০টি আসনে ভোটগ্রহণ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। এসব আসনে ভোটকেন্দ্র ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, প্রার্থীদের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রবল থাকবে। স্থানীয় জনগণ অনেক এলাকায় নির্বাচন প্রতিহত করতে পারে। অপরদিকে, বাকি ১৭০টি আসনের মধ্যে প্রায় ২০টিতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং প্রায় ৫০টিতে বিএনপি-জামায়াত সংঘাত ভোটের পরিবেশ নষ্ট করবে। ফলে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হলেও তা কখনোই গ্রহণযোগ্যতা বা স্থিতিশীলতা আনবে না।

এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের দিন থেকেই সহিংসতা ও অরাজকতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল। টানা এক মাস পর্যন্ত দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় রাজনৈতিক সংঘাত, অবরোধ, দাঙ্গা ও ধ্বংসযজ্ঞের মুখে পড়তে পারে রাষ্ট্র। এতে শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই নয়, দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, শিক্ষাব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারাবে, অর্থনীতি থমকে যাবে, এবং রাষ্ট্রব্যবস্থা সাময়িক বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত হতে পারে।

অতএব, দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় অংশগ্রহণমূলক, সর্বসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। আওয়ামীলীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করা মানে রাজনৈতিক বাস্তবতা অস্বীকার করা এবং দেশকে এক অনিশ্চিত সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়া। জাতীয় স্বার্থে এখনই সকল রাজনৈতিক দলের উচিত সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে এমন একটি পথ তৈরি করা, যেখানে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে, গণতন্ত্র টিকে থাকবে এবং দেশের স্থিতিশীলতা অক্ষুণ্ণ থাকবে।