নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে দেশে কোনো নির্বাচন সম্ভব নয়। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দিলে জনগণ ভোটকেন্দ্রে যাবে না, কারণ আওয়ামী লীগই জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। এই বক্তব্য দিয়েছেন তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে।
আগামী ২০২৬ সালের জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে নির্বাচন নিয়ে আলোচনার মধ্যে শেখ হাসিনার এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “যদি আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া হয়, তাহলে জনগণ ভোট দেবে না। তারা ভোটকেন্দ্রে যাবে না।”
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, তাঁর সরকার জনগণের ভোটেই নির্বাচিত হয়েছে এবং জনগণের সমর্থনই আওয়ামী লীগের শক্তি। তিনি আরও বলেন, “আমরা জনগণের জন্য কাজ করি, তাই জনগণও আমাদের সঙ্গে আছে। আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশে স্থিতিশীলতা থাকবে না—অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।”
রয়টার্স জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মহল বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এমনকি ভিসা নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত হয়।
এ বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার কাউকে দমন করছে না, বরং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলেন, “যারা অপরাধ করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এটা রাজনৈতিক নিপীড়ন নয়, আইনের প্রয়োগ।”
বিশ্লেষকরা মনে করেন, শেখ হাসিনার এই বক্তব্য মূলত আন্তর্জাতিক চাপের জবাব এবং দেশের অভ্যন্তরে দলীয় কর্মীদের প্রতি একটি রাজনৈতিক বার্তা। অর্থনৈতিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ধারাকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ আসন্ন নির্বাচনে জনগণের সমর্থন ধরে রাখতে চায়।
শেষ পর্যন্ত, প্রশ্ন রয়ে যায়—সব দলকে নিয়ে একটি সর্বগ্রহণযোগ্য নির্বাচন আদৌ সম্ভব হবে কি না এবং আন্তর্জাতিক মহল বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক অবস্থানকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে।