নিউজ ডেস্ক :: দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন যখন উত্তপ্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈয়বা, আইএস ও হুজি-ঘেঁষা একটি সমন্বিত জঙ্গি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছে—একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা জেনেও নিরবে আছে। তাদের ভাষায়, “অন্তত ৩০০ প্রশিক্ষিত জঙ্গী” ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছেছে বা স্থানীয় স্লিপার সেলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
সুত্র অনুযায়ী, এই নাশকতা পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা, এবং দলীয় নেতা-কর্মী, সাংবাদিক ও আইনজীবীসহ অন্তত ৫০ জনকে হত্যার টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে।
অভিযোগ—জঙ্গি পরিকল্পনার নেতৃত্বে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা
সমগ্র নাশকতা পরিকল্পনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন তথাকথিত “জঙ্গি নিয়ন্ত্রক ও তথ্য উপদেষ্টা” মাহফুজ, যিনি ১০ সদস্যের একটি কোর কমিটি গঠন করেছেন।
এই কোর কমিটিতে কারা আছেন—সেই তালিকা অত্যন্ত সংবেদনশীল।
গোয়েন্দা কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন:
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা খোদাবক্স
জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব নাসিমুল গনি
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সাজ্জাদ আলী
সেনাবাহিনীর এজি ব্রাঞ্চের একজন ব্রিগেডিয়ার
ডিজিএফআই-এর একজন ব্রিগেডিয়ার
এনএসআই-এর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা
সিটি এসবির একজন কর্মকর্তা
এনসিপির চারজন নেতা
সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—এই ব্যক্তিরা “অভ্যন্তরীণ সমন্বয়কারী” হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারেন বলে তাদের সন্দেহ।
ফিল্ড অপারেশনে পাকিস্তানি জঙ্গিদের যুক্ত করার অভিযোগ
পাকিস্তান থেকে পাঠানো লস্কর ও আইএস ঘাঁটির সদস্যরা ঢাকার কয়েকটি জায়গায় প্রবেশ করেছে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করছে—
বাংলাদেশের হুজি সদস্য
স্থানীয় আইএস-ঘেঁষা স্লিপার সেল
কোর কমিটির অপারেশন ইনচার্জরা
এই নেটওয়ার্কের উদ্দেশ্য—একযোগে কয়েকটি এলাকায় সহিংস হামলা, অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানো।
আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপানোর উদ্দেশ্য—গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তা
জঙ্গিরা পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টি করবে, এরপর—
বাসে আগুন,
বাজার-স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড,
গাড়িতে আগুন,
নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা
চালিয়ে এর দায় আওয়ামী লীগের ওপর চাপানোর প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা করছে।
এটিকে গোয়েন্দারা বলেছেন “False Flag Strategy”।
এতে উদ্দেশ্য হবে—
জনমানসে বিভ্রান্তি তৈরি
রাজনৈতিক সঙ্কট বাড়ানো
নির্বাচন বানচাল করতে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল হিসেবে উপস্থাপন করা
জঙ্গি পরিকল্পনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক অংশটি হলো একটি হত্যার তালিকা, যেখানে অন্তত ৫০ জন— এদের ভেতর থেকে খুন করা হবে।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা
সরকারী কর্মকর্তা
শীর্ষ ব্যবসায়ী
বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতা
জনপ্রিয় বাম ছাত্রনেতা
লেখক ,সাংবাদিক
ফুটপাতের দোকনদার
আইনজীবী
রিকশা চালক
বাসের হেলপার ড্রাইভার
একজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন “পরিকল্পনাটি অত্যন্ত সমন্বিত, এবং অভ্যন্তরীণ সহায়তা ছাড়া এটি সম্ভব নয়।”
একজন বিশ্লেষক বলেন
“উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নাম ওঠা খুবই অস্বাভাবিক, কিন্তু গোয়েন্দা রিপোর্টে যে বিবরণ এসেছে তা উদ্বেগের পর্যায়ের অনেক ওপরে।”
এই প্রতিবেদন পর্যন্ত সরকারি কোনো সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেনি।
তবে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন—এ ধরনের অভিযোগ যাচাইয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা বিষয়টি জানার পর থেকে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও জঙ্গি নেটওয়ার্কের এই সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
নিরাপত্তাবিদদের মতে—
“এটি আর সাধারণ রাজনৈতিক সহিংসতার পরিকল্পনা নয়; এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় সমন্বিত জঙ্গি অপারেশন।”