দিনপত্র নিজস্ব প্রতিবেদক
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন সজীব ওয়াজেদ জয় ,তার অভিযোগ, দেশের একটি বড় ও পুরোনো রাজনৈতিক দলকে কার্যত নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে, ফলে পুরো প্রক্রিয়াকে প্রতিযোগিতামূলক বলা কঠিন।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ভোটের ফলাফল প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন কিনা তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোকে সরাসরি নিষিদ্ধ না করা হলেও তাদের সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং অনেক নেতাকে কারাগারে রাখা হয়েছে।
এছাড়া তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এখনো দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ জনসমর্থন ধরে রেখেছে। তার মতে, এই সমর্থন উপেক্ষা করে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
জয়ের এই বক্তব্য নতুন করে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
“আওয়ামী লীগকে ফেরাতে বিএনপির সঙ্গে সংলাপে প্রস্তুত”
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরিবেশ এবং দলীয় ভবিষ্যৎ নিয়ে বিবিসি বাংলা কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন জয় তিনি জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগকে পুনরায় সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে বিএনপির এর সঙ্গে আলোচনায় বসতে তিনি প্রস্তুত।
“প্রধান দুই দলের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য”
সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুইটি প্রধান শক্তি। তিনি যুক্তরাজ্যের রাজনীতির উদাহরণ টেনে বলেন, এই দুই দলকে বাদ দিয়ে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা কল্পনা করা যায় না।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন
সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, একটি বড় ও পুরোনো দলকে কার্যত নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে। তার দাবি, এমন পরিস্থিতিতে ফলাফলকে প্রতিযোগিতামূলক বলা কঠিন। প্রগতিশীল দলগুলোর সভা-সমাবেশে বাধা এবং অনেক নেতার কারাবন্দি থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের জনসমর্থন এখনো প্রায় ৪০ শতাংশের মতো রয়েছে।
জাতীয় পার্টি ও জামায়াত প্রসঙ্গ
জয় বলেন, তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টি কোনো আসন না পাওয়া বিস্ময়কর। তার মতে, দলটির ৫ থেকে ১০ শতাংশ ভোট রয়েছে।
অন্যদিকে জামাতে ইসলাম সাধারণত সীমিত আসন পেলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তারাই বেশি লাভবান হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
“সমঝোতার বার্তা”
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হিসেবে তিনি জানান, আওয়ামী লীগকে মূলধারার রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে বিএনপির সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। তার মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং সময়ের সঙ্গে বাস্তবতা পরিষ্কার হবে। তবে আওয়ামী লীগ দেশের রাজনীতিতে একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবেই থাকবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।