আসিফ নজরুলের বক্তব্যে ‘লাভ’ রিয়্যাক্টকে ছাপিয়ে গেল ১৫ গুণের বেশি ‘হাহা’ রিয়্যাক্ট
ডিজিটাল ডেস্ক, ঢাকা
০৭ আগস্ট ২০২৪
আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রীতিমতো হাসির রোল পড়েছে। প্রথম আলোর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তার বক্তব্যটি প্রকাশিত হওয়ার পর সমর্থনসূচক ‘লাভ’ (Love) প্রতিক্রিয়ার চেয়ে ব্যঙ্গাত্মক ‘হাহা’ (Haha) প্রতিক্রিয়ার সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ১৫ গুণেরও বেশি, যা ডিজিটাল মাধ্যমে বক্তব্যটি নিয়ে জনমানুষের মনোভাবকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
সোমবার প্রথম আলো তাদের পেজে অধ্যাপক আসিফ নজরুলের একটি উদ্ধৃতি প্রকাশ করে, যেখানে তিনি বলেন, “সরকার এনসিপিকে প্রিভিলেজ (বিশেষাধিকার) দিচ্ছে না… গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃস্থানীয় ভূমিকার কারণে এনসিপি খুব বেশি ‘ভালনারেবল’ (নাজুক)। সে জন্য গোপালগঞ্জ বা কোনো কোনো জায়গায় তাদের বাড়তি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।”
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে মোট ১৩ হাজার প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সমর্থন বা ভালোবাসা প্রকাশ করে ‘লাভ’ রিয়্যাক্ট দিয়েছেন মাত্র ৩৫৩ বালাভ’র হার: (৩৫৩ / ৫,৮৫৩) * ১০০ ≈ ৬%
জন ব্যবহারকারী। এর বিপরীতে, বক্তব্যটিকে হাস্যকর বা অবিশ্বাস্য মনে করে ‘হাহা’ রিয়্যাক্ট দিয়েছেন ৫,৫০০ বা হাহা’র হার: (৫,৫০০ / ৫,৮৫৩) * ১০০ ≈ ৯৪% জনেরও বেশি মানুষ। সংখ্যার এই বিশাল ব্যবধান (প্রায় ১৫.৫:১) ইঙ্গিত দেয় যে, নেটিজেনদের একটি বড় অংশই আসিফ নজরুলের এই ব্যাখ্যাকে সহজভাবে গ্রহণ করেননি, বরং এটিকে ব্যঙ্গ বা কৌতুকের বিষয় হিসেবে দেখছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি রাজনৈতিক বা নীতি-নির্ধারণী পোস্টে ‘লাভ’ রিয়্যাক্ট সাধারণত গভীর সমর্থন, আস্থা বা শ্রদ্ধার প্রতীক। অন্যদিকে, ‘হাহা’ রিয়্যাক্ট ব্যবহৃত হয় বক্তব্যটিকে absurdist (অবাস্তব), হাস্যকর বা সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য হিসেবে চিহ্নিত করতে। এক্ষেত্রে ‘লাভ’ প্রতিক্রিয়ার তুলনায় ‘হাহা’ প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের কাছে এই “বাড়তি সুরক্ষা”র যুক্তিটি গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।
মন্তব্য বিভাগেও এই ব্যঙ্গাত্মক মনোভাবের প্রতিফলন দেখা যায়। রাফিকুজ্জামান লিমন নামের একজন মন্তব্য করেন, “হায় আল্লাহ খালেদ, এতো মিছা কথা কই তাও মানুষে জুতাপেটা করে না!” তার এই মন্তব্যে ২০টির বেশি প্রতিক্রিয়া পড়েছে, যা একই ধরনের মনোভাবের পরিচায়ক।
আরেকজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “খাইট্টা নিচে কে রে আমি কলা খাইনা!”—এই ধরনের তির্যক মন্তব্যগুলোও ‘হাহা’ প্রতিক্রিয়ার পেছনের কারণকে আরও জোরালো করে।
সামগ্রিকভাবে, আসিফ নজরুলের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন প্রায় অদৃশ্য থাকার বিপরীতে যে বিপুল পরিমাণ ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া এসেছে, তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ এবং তার ব্যাখ্যা নিয়ে ডিজিটাল জনমতে বিরাজমান গভীর সংশয় ও (অবিশ্বাস) চিত্রকেই সামনে নিয়ে এসেছে।