নিউজ ডেস্ক ::গ্রাম-গঞ্জে এখন ভোট নয়, দখল-তদবীরই রাজত্ব। ইউনুসের শাসনছায়ায় মাঠ-পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা নির্বাচনের মর্যাদা কাঁধে তুলে দিচ্ছে; তাদের জন্য প্রয়োজনীয় একটাই—সম্পদ আর প্রভাব। ফলে নাগরিকদের ভোটাধিক্যার অধিকার ভয়ানকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং স্থানীয় গণতন্ত্রের শিরদাঁড়ায় ফাটল ধরছে।
“আমরা আমাদের জমি ফিরে চাই; আমরা আমাদের ভোটের মর্যাদা চাই—কিন্তু রাজনীতির নামে যে লুট চলছে, তা বাধ্যতামূলকভাবে রোধ করতে হবে।”এক গ্রামীণ ভুক্তভোগীর করুণ আহ্বান
মাঠে বিচারহীনতার ছায়া
অনেক জায়গায় দেখা যায়—আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী-সমর্থকের বিরুদ্ধে হামলা বা হত্যা ঘটলেও নির্দিষ্টভাবে বিচার কার্যকর হচ্ছে না। থানার পর্যায়ে মামলা নথিভুক্ত হলেও তদন্তপ্রকিয়া ধীরে ধীরে গৃহীত হয় বা মীমাংসা করা হয়, যার ফলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আনুপাতিক ব্যবস্থা ওঠে না। এই ধরনের বিচারবহির্ভূত পরিস্থিতি নাগরিকদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ভয় সৃষ্টি করেছে। যেখানে পুলিশ ও প্রশাসন পক্ষপাতদুষ্টতা প্রদর্শন করে—সেখানে সাধারণ মানুষ আইনের আশ্রয় বর্জন করে ভিন্ন পথে যাওয়ার চেষ্টা করতে বাধ্য হয়; আর সেটাই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি।
সম্পদ-দখল: নদী, বন ও জমির লুট
নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, বন উজার, সরকারি জমি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখল—এসব কেবল আর্থিক অপরাধ নয়; এগুলো স্থানীয় অর্থনীতি, কৃষি ও মৎস্যজীবী জীবিকাকে ধ্বংস করছে। স্থানীয় ক্ষমতাধররা রাজনৈতিক আশ্রয়ে এই অবৈধ ব্যবসাকে শক্ত করে তোলায়, পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হচ্ছে—এবং সেই সঙ্গে নির্বাচনপ্রক্রিয়া ও ভোটের স্বাধীনতাও ধ্বংসপ্রায়। যখন আর্থিক শক্তি রাজনৈতিক প্রভাবের হাতিয়া হয়ে ওঠে, তখন গণতান্ত্রিক নিয়ম ও আইনের মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে ওঠে।
তদবীরের সংস্কৃতি, রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক চক্র
ইউনুসের শাসনকালীন সময় সরকার এবং প্রশাসনিক পর্যায়ের অনানুষ্ঠানিক সমন্বয় মাঠ-স্তরে দখলতন্ত্রকে আরো তেজী করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। থানার পুলিশ, দফতরের কর্মকর্তারা বা স্থানীয় বাহিনী—কখনও কখনও প্রভাবশালীর সঙ্গে ঐক্যপথে কাজ করে দখলকে অনুকূল করে। এমন প্রশাসনিক অনিয়ম সমাজে এক ধরনের বাধ্যতামূলক নীরবতা তৈরি করে; যারা বলার চেষ্টায় এগিয়ে আসে, তাদের হয়রানি বা দমনভীতি দেখানো হয়—ফলে সত্য প্রকাশের দরজা বন্ধ হয়ে যায়।
সমাজে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি
বিচারহীনতা ও সম্পদ-দখল কেবল একটি প্রজন্মের ক্ষতি নয়; এটি সামাজিক ম্যাচিউরেশনে গভীর ও স্থায়ী ক্ষত তৈরি করে। আস্থা হারানো সমাজকে ভাঙিয়ে দেয়—লংমেয়াদে সামাজিক সংহতি, আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনীতির গতি ক্ষুণ্ণ হয়। যদি নাগরিকরা আইনের প্রতি বিশ্বাস হারায়, তাহলে বিরোধ উস্কে উঠার পথে আগে আগে অপ্রতিরোধ্য রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে—যা একটি দেশের স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক।
যে সমাজে অন্যায়, দখল ও বিচারহীনতা নীরবভাবে প্রশ্রয় পায়, সেখানে গণতন্ত্রের শিকড় ধীরে ধীরে মরেছে। ইউনুসের ছায়ায় মাঠ-স্তরের দখলতন্ত্র যেভাবে পুষ্ট হচ্ছে, তা রোধ করতে না পারলে ভোটাধিকার, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশের মানুষ তাদের ভোট মর্যাদা ও জমি ফিরিয়ে চাই—এবং এর জন্য প্রয়োজন সংবিধানভিত্তিক, আইনি ও শান্তিপ্রিয় প্রতিরোধ। নীরবতা মানেই সহায়তা সেজন্য কথা বলার, তথ্য প্রকাশের এবং আইনি পথ ধরে বিচার দাবি করার সময় এখনই।