নিউজ ডেস্ক :: হেফাজতে ইসলামের বিতর্কিত নেতা মামুনুল হক সম্প্রতি আফগান সফর শেষে দেশে ফিরে চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে—ভবিষ্যতে তিনি বাংলাদেশে তালেবান সরকারের ন্যায় শাসন ব্যবস্থা চালু করতে চান। এই বক্তব্য শুধু এক ব্যক্তির কল্পনা নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরে মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের পুনরুত্থানের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।
*সরকারী আসকারায় মৌলবাদ*
অবাক করার বিষয় হলো, বর্তমান ইউনুস সরকারের প্রধান রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে মামুনুল হক ও তাঁর হেফাজত গ্রুপকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অতীতে যাদের হাতে শাপলা চত্বর রক্তাক্ত হয়েছিল, যারা নারীর স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, সেই গোষ্ঠীই এখন সরকারি আসকারা পাচ্ছে। এ দৃশ্য বাংলাদেশের মানুষকে ভয়ঙ্কর এক ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
*আফগান সংযোগ ও রহস্যময় সফর*
মামুনুল হক দাবি করেছেন, তিনি আফগান সরকারের বিশেষ অতিথি হিসেবে ভিসা ছাড়াই সফর করেছেন। প্রশ্ন জাগে কেন একজন বিতর্কিত ধর্মীয় নেতা বিদেশি রাষ্ট্রের অতিথি হবেন? আবারও স্মরণ করিয়ে দিতে হয়, তাঁর পিতা আজিজুল হক ছিলেন তালেবানের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং আফগান যুদ্ধে বাংলাদেশি তরুণদের পাঠানোর অভিযোগও তাঁর নামের সঙ্গে জড়িত। তাহলে কি আজ আবার সেই পুরনো সংযোগ নতুন রূপে সক্রিয় হয়েছে?
*পাকিস্তানি মডেলের দিকে বাংলাদেশ*
বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রের কিছু সংস্থা মৌলবাদী শক্তিকে কেবল সহ্যই করছে না, বরং পাহারা দিচ্ছে। পাকিস্তানে যেমন সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থার ছত্রচ্ছায়ায় জঙ্গিবাদ রাষ্ট্রের অংশে পরিণত হয়েছে, বাংলাদেশেও কি সেই পথেই হাঁটা হচ্ছে? সরকারের নীরবতা ও নিরাপত্তা সংস্থার শৈথিল্য—সবকিছু মিলিয়ে এই প্রশ্ন আজ জোরালো।
*জাতির জন্য অশনি সংকেত*
যদি সত্যিই বাংলাদেশ তালেবান ঘরানার শাসনব্যবস্থার দিকে ধাবিত হয়, তবে মুক্তিযুদ্ধের অর্জন, সংবিধানের অসাম্প্রদায়িক ভিত্তি এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো সবই ধ্বংসের মুখে পড়বে। নারীর অধিকার, শিক্ষার স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সবকিছু প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আর এ সবই ঘটছে তথাকথিত “অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকারের” প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায়।
বাংলাদেশের মানুষের স্পষ্ট ধারণা হচ্ছে—বর্তমান সরকার মৌলবাদী গোষ্ঠীকে শক্তি জোগাচ্ছে। মামুনুল হকের আফগান সফর এবং তাঁর তালেবানমুখী ঘোষণা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সরকারের প্রশ্রয়ে মৌলবাদী শক্তির রাষ্ট্র দখলের প্রাথমিক ধাপ।
এখন প্রশ্ন—আমরা কি পাকিস্তানের মতো জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হব, নাকি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলব?
–