দিনপত্র ডেস্ক :: বিশ্ব রাজনীতি এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা ইরান উত্তেজনা যদি প্রশমিত হয়, তাহলে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর দৃষ্টি দ্রুত সরে যেতে পারে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দিকে। এই নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় মায়ানমার ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে, যেখানে চীন, ভারত, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র সবার কৌশলগত স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে।
মায়ানমারের চলমান সংঘাত এখন আর শুধুমাত্র একটি অভ্যন্তরীণ সংকট নয় এটি ধীরে ধীরে মহাশক্তির প্রতিযোগিতার এক সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্রে রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে চীনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বিনিয়োগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এই অঞ্চলে উত্তেজনার মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। যদি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যেখানে চীন সরাসরি জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক ধরনের পরোক্ষ সংঘাতকে তীব্র করে তুলতে পারে যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছে। মায়ানমারের প্রতিবেশী হিসেবে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়লে বাংলাদেশকে মানবিক করিডোর, শরণার্থী সংকট কিংবা লজিস্টিক সহায়তার মতো জটিল ইস্যুর মুখোমুখি হতে হতে পারে। ফলে দেশটিকে এক সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে, যেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় স্বার্থ দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
অন্যদিকে পাকিস্তানও এক বহুমাত্রিক চাপে রয়েছে। অতীতে আফগানিস্তান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে কাজ করলেও, বর্তমান বাস্তবতায় পাকিস্তান আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তবুও ভবিষ্যতে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় তাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।
বর্তমান বিশ্বে সংঘাতের রূপও পরিবর্তিত হয়েছে। সামরিক শক্তির পাশাপাশি তথ্যযুদ্ধ, মিডিয়া প্রভাব, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক চাপ সবকিছু মিলিয়েই এখন একটি পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের চিত্র তৈরি হয়। তাই কোনো রাষ্ট্রকে ঘিরে জনমত গঠন বা “প্রোপাগান্ডা” চালানোও বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইরান-পরবর্তী বিশ্বে মায়ানমারকে ঘিরে যে নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে, তা শুধু একটি দেশের সংকট নয় এটি মহাশক্তিগুলোর নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র। এই প্রতিযোগিতার প্রভাব পড়তে পারে তুরস্ক, দক্ষিণ এশিয়া এবং পুরো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে, যা বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।