নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশ আজ এমন এক রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি, যেখানে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার প্রতীক নয়—বরং ক্ষমতা একতরফা কুক্ষিগত করার কৌশলে পরিণত হচ্ছে। যে প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে, তা কোনোভাবেই স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক বা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নির্দেশ করছে না। বরং এটি একটি পরিকল্পিত একতরফা ক্ষমতা পুনর্বিন্যাসের নিখুঁত প্রমাণ।
অভিযোগ উঠেছে, ইউনুস সরকার সচেতনভাবে আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনের বাইরে রেখেছে, যাতে ফলাফল ইতিবাচক ও নিয়ন্ত্রিত থাকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে গণতন্ত্রের পরাজয় ও প্রতিহিংসাপূর্ণ প্রশাসনিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক শক্তিগুলো স্পষ্ট করে বলেছে—জনগণ এমন নির্বাচন কখনো মেনে নেবে না।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, যখন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে একতরফা নির্বাচন হলে ভোটকেন্দ্র অবরুদ্ধ করা হবে, প্রয়োজনে কেন্দ্র জ্বালিয়ে দেওয়ার কথাও ভাবা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু হুমকি নয়; এটি নির্বাচনকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রকাশ্য সংকেত। আইনের শাসনের জন্য এটি একটি গুরুতর সতর্কবার্তা।
পাল্টা অবস্থানে আওয়ামী লীগের ঢাকা জেলার নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। এ বক্তব্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার রাজনীতি যেমন স্পষ্ট, তেমনি সংঘাতের ছায়াও সুস্পষ্ট। এই দ্বন্দ্বের মাঝখানে পড়ে সাধারণ জনগণ, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন। ফলে নির্বাচন আর নাগরিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্র নয় বরং ক্ষমতা দখলের একতরফা মঞ্চে রূপান্তরিত হচ্ছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দল ও সামাজিক শক্তিগুলো ইতোমধ্যেই জনগণকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের যুক্তি দ্ব্যর্থহীন যে নির্বাচনে দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়, সে নির্বাচন সাংবিধানিক বৈধতা বা নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা কোনোটিই পেতে পারে না। এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া মানে প্রহসনকে বৈধতা দেওয়া।
ইতিহাস আমাদের স্পষ্টভাবে শিক্ষা দিয়েছে একতরফা নির্বাচন কখনো স্থিতিশীলতা আনে না। বরং তা জন্ম দেয় দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অচলাবস্থা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আস্থার সংকট।
আজ প্রশ্নটি আর কে নির্বাচনে যাচ্ছে বা যাচ্ছে না সেখানে সীমাবদ্ধ নয়। মূল প্রশ্ন একটাই: এই নির্বাচন কি সত্যিই জনগণের রায় প্রতিফলিত করবে? হুমকি, বর্জন ও প্রশাসনিক কৌশলের ওপর দাঁড়ানো কোনো নির্বাচন কখনো জনগণের ম্যান্ডেট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।
অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ, সকল দলের অংশগ্রহণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফেরার বিকল্প নেই। অন্যথায় একতরফা ক্ষমতার প্রদর্শন সাময়িক সাফল্য আনতে পারে, কিন্তু তার রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় মূল্য দিতে হবে পুরো জাতিকেই।