নিউজ ডেস্ক :: পবিত্র কোরবানির মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ, ন্যায় ও মানবতার চর্চা। কিন্তু সেই শিক্ষাই যখন প্রশাসনের ভেতরে পদলোলুপতা ও লোভের শিকার হয়, তখন তা শুধু ধর্মীয় অবমাননা নয়—মানবিকতারও চরম অবক্ষয়। সম্প্রতি পাবনায় ঘটেছে এমনই এক ঘটনা, যা সমগ্র জাতিকে নাড়া দিয়েছে।
সৌদি আরব থেকে পাঠানো এতিম ও দরিদ্র শিশুদের জন্য বরাদ্দ দুম্বার মাংস ভাগাভাগির নামে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা তা নিজেদের মধ্যে বণ্টন করেছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে। শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে পাবনা সার্কিট হাউসে এই মাংস ভাগাভাগির সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ধরা পড়ে প্রশাসনের কয়েকজন কর্মচারী।
দায়িত্বের আসনে বসে যারা দুর্বল ও অসহায় মানুষের প্রাপ্য কেড়ে নেয়, তারা শুধু আইনের নয়, নৈতিকতারও ঘৃণার পাত্র। এই ঘটনায় বিএনপি, জামাত ও এনসিপি-ঘনিষ্ঠ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নামও উঠে এসেছে, যারা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে এতিমের হক লুটে নিয়েছে।
যে মাংসের গন্ধে এতিমদের মুখে হাসি ফোটার কথা ছিল, সেই মাংসই শেষ পর্যন্ত গেল ক্ষমতার টেবিলে। এ যেন এক ঘৃণ্য উদাহরণ—কীভাবে প্রশাসনের আশ্রয়ে দুর্নীতি এখন ধর্মীয় অনুদানকেও রেহাই দিচ্ছে না।
এই ঘটনাটি কেবল একটি জেলার নয়; এটি সমগ্র দেশের প্রশাসনিক নৈতিকতার সংকটের প্রতিচ্ছবি। জনগণের সেবক নামে যারা সরকারি দায়িত্ব পালন করেন, তারা যদি এতিমের খাবার আত্মসাৎ করেন, তাহলে জনগণ কাকে বিশ্বাস করবে?
এই মাংস ভাগাভাগি আসলে ছিল বিবেকের পরীক্ষাও—যেখানে কিছু মানুষ ব্যর্থ হয়েছে। ধর্ম, মানবতা ও রাষ্ট্র—সবকিছুর প্রতি এমন অবমাননার দৃষ্টান্তে সমাজের মাথা নত হয়ে যায়।
এখন সময় এসেছে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার। দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে না পারলে এমন অনাচার চলতেই থাকবে। কারণ, যেখানে এতিমের হক লুটে ভোজ হয়, সেখানে মানবতার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে পড়ে।