নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
গণপরিবহন খাতে কথিত ‘চাঁদাবাজি’ প্রসঙ্গে ভিন্নধর্মী মন্তব্য করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম রবি। তিনি বলেছেন, গণপরিবহনে যে অর্থ আদায়কে অনেকেই ‘চাঁদা’ বলে অভিহিত করছেন, তিনি বিষয়টিকে সেভাবে দেখছেন না।
আজ রাজধানীতে সড়ক পরিবহন খাতের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
সেতুমন্ত্রী বলেন, “গণপরিবহন থেকে যে অর্থ নেওয়া হয়, সেটাকে সরাসরি চাঁদাবাজি বলা ঠিক হবে না। বিষয়টি আরও গভীরভাবে দেখা দরকার। কোথাও যদি অবৈধ কিছু ঘটে, সেটি অবশ্যই বন্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”
তিনি আরও বলেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন টার্মিনাল ও সড়কে অনিয়ম বন্ধে তদারকি জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে মন্ত্রীর এই বক্তব্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকলেও সেটিকে ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে স্বীকার না করা কতটা যৌক্তিক।
এ বিষয়ে পরিবহন শ্রমিকদের একটি অংশ বলছে, বিভিন্ন স্থানে সংগঠনের নামে টাকা তোলা হলেও তা নাকি কল্যাণ তহবিল, ব্যবস্থাপনা ব্যয় বা নিরাপত্তা খাতে ব্যয় করা হয়। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব আদায়ের স্বচ্ছতা নেই এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা জোরপূর্বক নেওয়া হয়।
সড়ক পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিষয়টি পরিষ্কার করতে সরকারকে স্বচ্ছ তদন্ত এবং স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। অন্যথায় ‘চাঁদা’ বনাম ‘ফি’ বিতর্ক আরও জটিল আকার নিতে পারে।
গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।