ওয়াশিংটনের অস্বস্তি তারেককে ঘিরে—ফখরুলে ভরসা পশ্চিমা মহলের

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে আবারও ঘনিয়ে আসছে অজানা কূটনৈতিক মেঘ। নির্বাচনোত্তর ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম। প্রশ্ন একটাই— বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, ড. মুহাম্মদ ইউনুস কাকে হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন?

এই প্রশ্ন ঘিরে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে চলছে তীব্র আলোচনা। নানা সূত্র ও বিশ্লেষক মত অনুযায়ী, ড. ইউনুসের আস্থার জায়গায় এখন তারেক রহমান নয়, বরং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এমন ইঙ্গিতেই যেন দেশের রাজনীতিতে নতুন হিসাব শুরু হয়ে গেছে।

*পশ্চিমা কূটনীতির ছায়া*
বাংলাদেশের রাজনীতিতে পশ্চিমা শক্তির প্রভাব বরাবরই লক্ষণীয়।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলো সেই প্রভাবকে আরও দৃশ্যমান করে তুলেছে।
ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি কূটনৈতিক সূত্রের মতে, তারা তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মানতে প্রস্তুত নন।
তাদের যুক্তি তারেকের অতীতের দুর্নীতি মামলা, রাজনৈতিক বিতর্ক ও জনমত বিভাজন তাঁকে “অগ্রহণযোগ্য” করে তুলেছে আন্তর্জাতিক পরিসরে।

অপরদিকে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তুলনামূলকভাবে ‘সফট’, ‘কূটনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য’ এবং ‘সহজপাঠ্য নেতা’ হিসেবে পশ্চিমা মহলে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন।
তাই অনেকেই মনে করছেন, ইউনুস সরকারের পতনের পর যদি কোনো নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ গঠিত হয়, তবে সেখানে ফখরুলই হতে পারেন পশ্চিমা সমর্থনপুষ্ট “সমঝোতার মুখ”।

*বিএনপির ভেতরে দ্বন্দ্বের ছায়া*

এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তৈরি হচ্ছে নতুন টানাপোড়েন।
দলের একাংশ বিশ্বাস করে—
আন্দোলন, ত্যাগ এবং নেতৃত্বের উত্তরাধিকার সূত্রে তারেক রহমানই বিএনপির একমাত্র বৈধ নেতা।
কিন্তু বাস্তববাদী অংশের মতে—
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্ষমতা পেতে হলে আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও কূটনৈতিক সমর্থনই মুখ্য।

এই বাস্তবতায় “গ্রহণযোগ্য মুখ” হিসেবে ফখরুলকে তুলে আনতেই কাজ করছে ইউনুসপন্থী এবং পশ্চিমা প্রভাবমুক্ত মহল।
যদি এই অন্তর্দ্বন্দ্ব আরও গভীর হয়, তবে বিএনপি হয়তো আবারও রাজনৈতিক সুযোগ হারাবে—যেমনটি ঘটেছিল বিগত কয়েকটি আন্দোলনের সময়।

*বিদেশি স্বার্থ ও জাতীয় রাজনীতির ভারসাম্য*

বাংলাদেশের ইতিহাসে বিদেশি স্বার্থের প্রভাব এক অস্বীকার্য বাস্তবতা।
কখনো তারা সরকারবিরোধী আন্দোলনে জ্বালানি দিয়েছে, আবার কখনো সরকারকে রক্ষা করেছে নিজেদের কৌশলগত সুবিধার জন্য।
আজও একই প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক—
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কি বিদেশি পরামর্শে নির্ধারিত হবে, নাকি জনগণের ভোটে?

যদি সত্যিই ড. ইউনুস বিএনপিকে ক্ষমতায় এনে তারেক রহমানকে এড়িয়ে ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সামনে আনেন, তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঘটবে বড় এক মানচিত্র পরিবর্তন।
এবং সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে থাকবে— পশ্চিমা কূটনৈতিক স্বার্থ, দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন, ও নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে এক নীরব আন্তর্জাতিক খেলা।