ওসমান হাদীর পর এনসিপি নেত্রী রুমীর অস্বাভাবিক মৃত্যু, নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: রাজধানীর হাজারীবাগের একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–সংশ্লিষ্ট জান্নাতারা রুমী (৩০)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার—এই ঘটনা আর পাঁচটা মৃত্যুসংবাদ নয়। ওসমান হাদীর উপর গুলির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই রাজনৈতিক পরিসরের আরেকজন নেত্রীর মৃত্যু দেশের রাজনীতিতে নতুন করে নিরাপত্তা, চাপ ও জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, সময়কাল, প্রেক্ষাপট ও ধারাবাহিকতা মিলিয়ে বিষয়টি গভীর অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

এর আগে এনসিপির তথা ইনকিলাব মঞ্চের আলোচিত নেতা ওসমান হাদীর গুলির ঘটনায় জুলাই আন্দোলনের সাথে জড়িতদের ভেতর যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল, জান্নাতারা রুমীর মৃত্যু সেই উদ্বেগকে বহুগুণ বাড়িয়েছে।

বিশেষ করে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত আন্দোলন–সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি এখন প্রকাশ্য।

প্রশ্ন উঠছে—এগুলো কি কেবল বিচ্ছিন্ন ও ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি, নাকি রাজনৈতিক চাপ, হুমকি, সামাজিক অপপ্রচার ও মানসিক নিপীড়নের একটি বিপজ্জনক ধারাবাহিকতা?

নারীদের জন্য এই ঝুঁকি আরও তীব্র। জান্নাতারা রুমীর মৃত্যু সেই বাস্তবতার নির্মম প্রতিফলন কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে জরুরি হলো—স্বচ্ছ, স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত। মৃত্যুর কারণ যদি আত্মহত্যা হয়, তবে তার পেছনে থাকা মানসিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপগুলো স্পষ্টভাবে উন্মোচন করতে হবে। আর যদি অন্য কোনো কারণ থাকে, তবে তা গোপন না রেখে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। ‘আত্মহত্যা’ শব্দটি যেন তদন্ত থামিয়ে দেওয়ার অজুহাত না হয়—এটাই জনআকাঙ্ক্ষা।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোরও দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। কর্মীদের মানসিক সহায়তা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সাংগঠনিক সুরক্ষা নিশ্চিত না করলে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে উঠবে। বিশেষত নারীদের জন্য নিরাপদ রাজনৈতিক পরিসর নিশ্চিত না করা গেলে গণতন্ত্রের দাবিও অর্থহীন হয়ে পড়ে।

ওসমান হাদীর পর জান্নাতারা রুমীর মৃত্যু আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—রাজনীতি কেবল স্লোগান, মিছিল বা ক্ষমতার লড়াই নয়; এটি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার প্রশ্ন। এই মৃত্যু যেন আরেকটি সংখ্যায় পরিণত না হয়। সত্য উদ্ঘাটন, জবাবদিহি এবং নিরাপদ রাজনৈতিক পরিসর নিশ্চিত করাই হতে পারে জান্নাতারা রুমীর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।