কক্সবাজারে যুবলীগ সভাপতিকে হত্যা,ইউনুস সরকারের মদদে মৌলবাদ-জঙ্গীর নৃশংসতা

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশজুড়ে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মৌলবাদী ও জঙ্গী গোষ্ঠীর তৎপরতা, তার সঙ্গে যুক্ত ইউনুস সরকারের নিস্ক্রিয়তা—সবকিছু মিলে দেশজুড়ে যেন এক অঘোষিত সন্ত্রাসের রাজত্ব চলছে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা হত্যা, নির্যাতন বা গুমের শিকার হচ্ছেন।

সাম্প্রতিক এই সহিংসতার সবচেয়ে মর্মস্পর্শী ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারে। শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি -কে দিনদুপুরে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্থানীয় মানুষ জানায়—ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত, সংগঠিত এক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।

নিহতের স্বজনরা জানান, কয়েকদিন ধরেই তিনি স্থানীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে ছিলেন। তবুও তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে সক্রিয় থেকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচার করছিলেন। সেই সাহসই হয়তো তাঁর মৃত্যুর কারণ। ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের পর এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোক ও ক্ষোভের ছায়া।

একজন স্থানীয় প্রবীণ নেতা বলেন,

এই বাংলার মাটিতে রক্তের দাগ থাকবে না—আমরা বিশ্বাস করি, এই হত্যার বিচার একদিন হবেই। যারা স্বাধীনতার পক্ষের রাজনীতিকে নির্মূল করতে চায়, তারা ইতিহাসের আসামি হয়ে থাকবে।”
কক্সবাজারের এই হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন নয়। গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী খুন হয়েছেন একই ধরনের পদ্ধতিতে অপহরণ, কুপিয়ে হত্যা বা গুম করে ফেলা। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধারাবাহিক সহিংসতা মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও মৌলবাদী পুনরুত্থানের ইঙ্গিত বহন করছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সরকার-পরিবর্তনের পর প্রশাসনের মধ্যে সৃষ্ট বিভ্রান্তি ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো মাঠে নেমেছে। তাদের লক্ষ্য—আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তিকে ভয় দেখানো, জনগণের মনে ভয় ঢোকানো।

এলাকাবাসীর আশা, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে। স্থানীয় জনগণ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য।

এ দেশ স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির ত্যাগে গড়ে উঠেছে। যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মানে, তাদের রক্ত ঝরিয়ে এই মাটিকে কালো করা হবে না।”

দেশে মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদের পুনরুত্থান শুধু রাজনীতির জন্য নয়, জাতির ভবিষ্যতের জন্যও এক অশনি সংকেত। এখনই সময়—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশে সন্ত্রাস, হত্যা ও ভয় দেখিয়ে গণতন্ত্রকে স্তব্ধ করা যাবে না—এই বিশ্বাসেই আজ লাখো মানুষের উচ্চারণ,
“এই হত্যার বিচার বাংলার মাটিতেই হবে।”