কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগ বাড়ছে,কারাগার কি সংশোধনাগার, না রাজনৈতিক প্রতিশোধের স্থান প্রশ্ন মানবাধিকার সংগঠনের

লেখক: সুমিত বিশ্বাস
প্রকাশ: ২ মাস আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: দেশজুড়ে বিভিন্ন কারাগারে বন্দীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ক্রমেই উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। মানবাধিকার সংগঠন, আইনজীবী এবং বন্দীদের স্বজনদের অভিযোগ বিশেষ করে রাজনৈতিক বন্দীদের ক্ষেত্রে বৈষম্য, অতিরিক্ত নজরদারি, মানসিক চাপ ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে কারাগার কি এখনো সংশোধনের জায়গা, নাকি রাজনৈতিক প্রতিশোধ বাস্তবায়নের একটি অদৃশ্য ক্ষেত্র?
এই প্রতিবেদনের জন্য সংগৃহীত একাধিক অভিযোগ ও তথ্য অনুযায়ী, কারা অধিদপ্তর এবং দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকর্তা অতীতে বা বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন—যার প্রভাব কারাগার ব্যবস্থাপনায় নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
অভিযোগের তালিকায় কারা অধিদপ্তরের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ঢাকা, কাশিমপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের একাধিক কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ও জেল সুপারদের নাম উঠে এসেছে। মানবাধিকারকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এসব কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন, যা কারাগারের ভেতরে বন্দীদের প্রতি আচরণে বৈষম্যের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
বিশেষ করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং বিশেষ কারাগারকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। বন্দীদের স্বজনদের অভিযোগ, এসব কারাগারে রাজনৈতিক বন্দীদের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি কড়া নজরদারি, শাস্তিমূলক আচরণ এবং সুযোগ–সুবিধা বঞ্চনার ঘটনা ঘটছে। অভিযোগের ব্যাপকতা ও বিস্তার প্রশাসনের জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কারা প্রশাসনের মূল দায়িত্ব সংশোধন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—প্রতিশোধ বা শাস্তি প্রদান নয়। সংবিধান অনুযায়ী, বন্দী হলেও একজন নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা। কিন্তু যখন কারাগার ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক পক্ষপাত ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে, তখন সেই সাংবিধানিক দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালিত হচ্ছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়।
মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, কারাগারের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক আনুগত্য বা পরিচয়ের অভিযোগ ওঠাই উদ্বেগজনক। তাদের ভাষায়, “অভিযোগ সত্য হোক বা মিথ্যা এত বিস্তৃত পরিসরে অভিযোগ ওঠা মানেই একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত জরুরি।”
এ বিষয়ে কারা অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।