নিউজ ডেস্ক ::বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগারে এক অদৃশ্য আতঙ্ক এখন ছড়িয়ে পড়েছে—“পয়জনিং” বা বন্দিদের খাবারে বিষ মেশানোর আশঙ্কা। সাম্প্রতিক সময়ে ভিন্নমতের নেতা, রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবার একের পর এক অভিযোগ তুলছেন: কারাগারে শুধু চিকিৎসা বঞ্চনা নয়, বরং ধীরে ধীরে মানসিক ও শারীরিকভাবে অক্ষম করে দেওয়ার এক গোপন প্রক্রিয়া চলছে।
বিশেষ করে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারকে ঘিরে অভিযোগ সবচেয়ে গুরুতর। সেখানে বন্দিদের খাবারের সঙ্গে অজানা কেমিক্যাল মেশানোর কথা জানাচ্ছেন বহু পরিবার। তাদের দাবি, এই “বিষমিশ্রিত খাবার” খাওয়ার পর বন্দিদের মধ্যে অস্বাভাবিক দুর্বলতা, মাথা ব্যথা, স্নায়ু সমস্যা, এমনকি চর্মরোগ পর্যন্ত দেখা দিচ্ছে। কেউ কেউ মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন কারাগারে আওয়ামীলীগের ৬০ নেতা কর্মীকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি এই অভিযোগ সত্য হয়, তবে এটি কোনো সাধারণ প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়—বরং ভয়াবহ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। এর উদ্দেশ্য হতে পারে দেশের চিন্তাশীল, প্রতিবাদী ও বুদ্ধিজীবী শ্রেণিকে মননশূন্য করে দেওয়া।
একজন বিশ্লেষক বলেন,
পয়জনিং কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি রাষ্ট্রীয় মননের হত্যাকাণ্ড। এতে বন্দিদের নয়, গোটা জাতির নৈতিক ভিত্তিই ধ্বংস হয়।”
সম্প্রতি কারাগার থেকে আসা বহু প্রতিবেদন বলছে রাজনৈতিক বন্দিদের অনেককে নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না, আদালতে হাজির করা বিলম্বিত হচ্ছে, আবার কেউ কেউ দীর্ঘদিন আলাদা কক্ষে একঘরে থাকছেন, যা মানসিক নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে। এসবই ইঙ্গিত দেয়, দেশের কারা ব্যবস্থাপনা আজ রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিশোধের ছায়ায় বন্দি হয়ে পড়েছে।
সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী, প্রত্যেক বন্দির ন্যায্য আচরণ ও চিকিৎসার অধিকার রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবে সেই অধিকার ক্রমেই উপেক্ষিত হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশের কারাগার কি এখন “রাষ্ট্রীয় প্রতিশোধের কারখানা”তে পরিণত হচ্ছে?
কারাগারে যদি সত্যিই পয়জনিংয়ের মতো নৃশংস কার্যক্রম চলে, তবে তা কেবল বন্দিদের বিরুদ্ধে নয় পুরো জাতির বিবেকের বিরুদ্ধে অপরাধ। এখনই সময়, মানবাধিকার কমিশন, দুদক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এগিয়ে এসে তদন্তের দাবি তোলার।
রাষ্ট্রের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া কারণ আজ যদি নীরব বুদ্ধিজীবী নিধন চলে, কাল তা গোটা জাতির মনন ধ্বংস করবে।
সতর্ক থাকতে হবে এটাই সময়।