দিনপত্র ডেস্ক :: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে হঠাৎ করে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে বাড়তি তৎপরতা নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, পশ্চিমা দুটি প্রভাবশালী দেশের রাষ্ট্রদূত কি সম্প্রতি সেনাপ্রধানের সঙ্গে কোনো ‘বিশেষ বৈঠক’ করেছেন? একই সঙ্গে ৭ ফেব্রুয়ারি প্রভাবশালী কূটনীতিকদের নিয়ে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক ডাকার খবরও জল্পনা আরও উসকে দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক বক্তব্য—“নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই”—নিয়ে চলছে নানা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ। নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রধানদের ডেকে, তিন বাহিনীর প্রধানদের উপস্থিতিতে হঠাৎ করে এমন বৈঠক ও কঠোর বক্তব্য কেন প্রয়োজন হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পর্যবেক্ষকরা।
অভিজ্ঞ মহলের একাংশের ধারণা, আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রেক্ষাপটেই এই বক্তব্য এসেছে। তাদের মতে, সেনাপ্রধান যতই দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করুন না কেন, পর্দার আড়ালে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষ করে পশ্চিমা দুই রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক এবং ৭ ফেব্রুয়ারির ভার্চুয়াল কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ সেই অনিশ্চয়তাকেই ইঙ্গিত করছে বলে কেউ কেউ মনে করছেন।
তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। সরকার বা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক কিংবা ভার্চুয়াল কূটনৈতিক সভার উদ্দেশ্য নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই কূটনৈতিক তৎপরতা, নিরাপত্তা বৈঠক এবং উচ্চপর্যায়ের বার্তাগুলো রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে। ফলে নির্বাচন আদৌ কতটা নির্বিঘ্ন ও অনিশ্চয়তামুক্তভাবে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।