নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বিষয় ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়া জনগণ স্বীকার করবে না। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পর্যন্ত বিস্তৃত একটি জাতীয় শ্রেণি আজ অভিন্ন ভাষায় বলছে আওয়ামীলীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন মানেই অনিশ্চয়তার দরজা খুলে দেওয়া। এই অবস্থান শুধুই দলীয় সমর্থন নয় এটি রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও স্বাধীনতার ইতিহাস থেকে আসা গভীর চেতনার বহিঃপ্রকাশ।
গ্রামীণ কৃষক, দিনমজুর, শ্রমজীবী মানুষ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা অতীত অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি করেছেন শেখ হাসিনার সময়ে তারা যে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন পেয়েছেন, সেটিই তাদের জীবনের স্থিতিশীলতার নির্ভরযোগ্য ভিত্তি। তাদের কাছে রাজনীতি কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়; বরং নিত্যদৈনিক জীবনের বাজারমূল্য, বিদ্যুৎ, সেচ, রাস্তা, চিকিৎসা, শিক্ষার মতো বাস্তব সেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে তারা মনে করে, দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিকে বাদ দিয়ে যে কোনো নির্বাচন দেশের অর্থনীতি ও সামগ্রিক শান্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে।
সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তৃণমূল জনগণ প্রকাশ্যে মত জানাচ্ছে যে, একতরফা বা অবৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা তারা মেনে নেবে না। তাদের যৌক্তিকতা স্পষ্ট জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া গঠিত সরকার কখনোই দীর্ঘমেয়াদে বৈধতা ধরে রাখতে পারে না। এই উপলব্ধি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের গভীরে থাকা একটি মৌলিক জনমানসের ইঙ্গিত বহন করে।
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের মধ্যে আরও একটি শক্তিশালী বোধ কাজ করছে স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দলকে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া মানে দেশের প্রতিষ্ঠার ইতিহাসকে অস্বীকার করা। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভাষায় একে “institutional dislocation” বলা হয় যেখানে রাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত শক্তিকে বাদ দিলে রাজনৈতিক স্থাপত্যই দুর্বল হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের জনগণের উদ্বেগ ঠিক এখানেই একটি একতরফা প্রক্রিয়া পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
অন্যদিকে, শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী স্থিতিশীলতার প্রশ্নে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাদের দৃষ্টিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা মানে চাকরি সংকট, বাজার অস্থিতিশীলতা এবং মূল্যস্ফীতি। তাই তাদের বক্তব্য খুবই সরল কিন্তু বাস্তবসম্মত: “যে পরিবেশে আমরা ভালো ছিলাম, সেটি নষ্ট করা যাবে না।” এর মাধ্যমে তারা মূলত অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মৌলিক দাবিকেই সমর্থন করছে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও একই সুর শোনা যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র তখনই বৈধতা ধরে রাখতে পারে, যখন সেখানে প্রতিযোগিতামূলক বহুদলীয় নির্বাচন নিশ্চিত হয়। তাই প্রধান রাজনৈতিক শক্তিকে বাদ দেওয়ার যে কোনো প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেই অগ্রহণযোগ্য। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের প্রতি জোর দিচ্ছে, যাতে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের তৃণমূল জনগোষ্ঠী আজ যে দৃঢ় বার্তা দিচ্ছে তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ—
অংশগ্রহণহীন নির্বাচন হবে না আওয়ামীলীগকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়।
এটি শুধু রাজনৈতিক অবস্থান নয়; এটি রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার প্রতি জনগণের সম্মিলিত দায়বদ্ধতার ভাষা।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার এই নতুন অধ্যায়ে জনগণই গণতন্ত্রকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার নেতৃত্ব দিচ্ছে শান্তিপূর্ণ, সংগঠিত ও দায়িত্বশীল চাপের মাধ্যমে।