নিউজ ডেস্ক :: ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি ভাড়াবাড়িতে মাদরাসা পরিচালনার আড়ালে বোমা ও ককটেল তৈরির কারখানা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের অভিযানে ওই ভবনের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল, ককটেল ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বাড়ির মালিক পারভীন বেগম বলেন, “তিন বছর ধরে আমার বাড়ি ভাড়া নিয়ে মুফতি হারুন মাদরাসা পরিচালনা করতেন। পরে তিনি তার শ্যালক আলামিন ও শ্যালকের স্ত্রী আছিয়াকে মাদরাসা পরিচালনার দায়িত্ব দেন। হারুন মাঝে মাঝে মাদরাসায় আসতেন। আমি নিয়মিত খোঁজখবর নিতাম। কিন্তু মাদরাসার আড়ালে কী কার্যক্রম চলছিল, তা বুঝতে পারিনি। আজ এসে দেখি ভবনের চারপাশ উড়ে গেছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরে বিকট শব্দে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে এসে ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখতে পান। খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালান। তল্লাশির সময় ভবনের ভেতর থেকে সন্দেহজনক কেমিক্যালসহ বিস্ফোরক তৈরির নানা উপকরণ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর সদস্য হারুন ওই ভবনে জঙ্গি প্রশিক্ষণ ও বোমা তৈরির কার্যক্রম চালাতেন। এখানে একটি গোপন বোমা তৈরির কারখানা স্থাপন করা হয়েছিল বলেও তারা জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। কতদিন ধরে এবং কারা এই অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।