নিউজ ডেস্ক :: খাগড়াছড়ি আবারও রক্তাক্ত। পাহাড়ি-সমতলের শান্তিপ্রিয় মানুষের সহাবস্থানের গল্প আজঊ ভয়াল রূপ নিয়েছে রাষ্ট্রীয় নৃশংসতায়। বিএনপি নেতা অদুদ ভূঁইয়ার পেছনে কলকাঠি নেড়ে, পুলিশ-সেনাবাহিনী আর বাঙালি সেটলারদের দিয়ে পাহাড়ি গ্রামে যে ভয়াবহ হামলা চালানো হলো, তা জাতিগত নিধনের (জেনোসাইড) এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। নিরস্ত্র পাহাড়িদের উপর গুলি, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া, নারী-শিশুর আর্তনাদ—সবকিছুই যেন রাষ্ট্রীয় মদদে সংগঠিত।
এদিকে, কথিত নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুস এই রক্তের রাজনীতিকে নোরাং সাজিয়ে রাখছেন তাঁর ‘মানবতা’ নামের আড়ালে। বিদেশের দরবারে বসে তিনি উন্নয়ন আর মানবাধিকারের গল্প শোনালেও দেশের ভেতরে পাহাড়িদের রক্তের স্রোত তাঁর নীরব সমর্থনে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রশ্ন জাগে—ইউনুস কি তবে এই রক্তপাতকে কাজে লাগিয়েই তাঁর বিদেশিঊ প্রভুদের খুশি রাখতে চাইছেন?
পাহাড়ে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা নতুন নয়, কিন্তু এবার এর ভয়াবহতা এবং সমন্বিত রূপ জাতিগত প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যখন রাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর উপর বারবার হামলা চালায়, তখন দ্বি-জাতি তত্ত্ব জন্ম নেয়। যেমন ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সমাধান খোঁজা হয় দ্বি-রাষ্ট্র কাঠামোয়। বাংলাদেশ রাষ্ট্র কি তবে নিজ হাতে পাহাড়িদের এমন পথে ঠেলে দিচ্ছে?
অপরাধীদের বিচারের পরিবর্তে পাহাড়িদের ‘বিদেশি’ তকমা দিয়ে মিয়ানমারে চলে যেতে বলাটা কেবল অমানবিকই নয়, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বহীনতার চরম নিদর্শন। অথচ, ফিলিস্তিনের জন্য কাঁদা মানুষরা পাহাড়িদের অধিকার প্রশ্নে মুখে কুলুপ এঁটে থাকে।
ড. ইউনুস দেশের মানুষের ভোটাধিকার, স্বাধীনতা ও ন্যায্য দাবি মাড়িয়ে আজ এক ‘অবৈধ’ শাসকের ভূমিকায়। তাঁর নোরাং রাজনীতির আড়ালে পাহাড়িদের রক্তে ভিজে উঠছে জনপদ। ইতিহাস ক্ষমা করবে না—যখন কোনো নেতা জনগণের কান্না শুনেও চোখ ফেরায়, তখন তার পতন অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে।