খাগড়াছড়িতে সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানুষের বিদ্রোহ, পাহাড়ে ন্যায়বিচারের আর্তনাদ

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: খাগড়াছড়ি আজ অগ্নিগর্ভ। পাহাড়ি জনপদে যে সেনা বাহিনীকে নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে দেখার কথা ছিল, আজ সেই বাহিনীর বিরুদ্ধেই জনগণের ক্ষোভ ফেটে পড়েছে। মানুষ রাস্তায় নেমে বিদ্রোহ করছে, কারণ তাদের অভিযোগ সেনারা সন্ত্রাসীদের আড়াল দিচ্ছে অথচ নিরীহ জনগণের ওপরই দমন-পীড়ন চালাচ্ছে।

এ কি সেনা বাহিনীর প্রকৃত দায়িত্ব? জনগণকে রক্ষা করার শপথ নিয়ে যারা পাহাড়ে অবস্থান করছে, তাদের কাছ থেকে জনগণ আশা করেছিল নিরাপত্তা, আশ্রয় আর ন্যায়বিচার। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো দিব্যি চাঁদাবাজি চালাচ্ছে, অস্ত্রের ঝনঝনানি চলছে, আর সেনাদের গর্জন নামছে গরিব কৃষক, দোকানদার, ছাত্র কিংবা সাধারণ গ্রামবাসীর ওপর। এটি কেবল দুঃখজনক নয় গণবিরোধী, অমানবিক ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

খাগড়াছড়িতে আজ যে বিক্ষোভ, তা হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, হতাশা আর অবহেলার ফলেই মানুষ আজ রাস্তায়। তারা বলছে পাহাড়ে নিরাপত্তার নামে ভয় আর দমননীতি চাপিয়ে রাখা যাবে না। সেনা বাহিনী যদি সত্যিই জনগণের আস্থা ফিরে পেতে চায়, তবে তাদের দমননীতি বন্ধ করে প্রকৃত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বাজারের ব্যবসায়ীরা ভয়ে দোকান খুলতে পারছে না, কৃষকরা জমি ছেড়ে পালাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না। নারীরা অবর্ণনীয় হয়রানির শিকার হচ্ছে। এটি কোনো সভ্য রাষ্ট্রের চিত্র নয় এটি পাহাড়ে অন্যায়ের নগ্ন প্রকাশ।

জনগণ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে আর নয় অবহেলা, আর নয় দমননীতি। তারা ন্যায়বিচার চায়, সন্ত্রাসমুক্ত পাহাড় চায়, নিরাপত্তা চায়। সেনা বাহিনী যদি এখনো চোখ খুলে সত্য না দেখে, তবে খাগড়াছড়ির আগুন হয়তো গোটা দেশের জন্য বড় অস্থিরতার বার্তা বয়ে আনবে।

আজ পাহাড়ের আর্তনাদ একটাই সন্ত্রাসীদের শেকল পরাও, জনগণের উপর দমননীতি নয় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করো।