দিনপত্র ডেস্ক :: সাংবাদিকতার প্রথম শর্ত নির্ভুলতা। দ্বিতীয় শর্তও তাই। একজন মানুষ জীবিত থাকুক বা মৃত—তার নাম, জন্মতারিখ ও বয়স সঠিকভাবে উপস্থাপন করা সাংবাদিকতার সৌজন্য নয়, পেশাগত দায়িত্ব। তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কোনো দুঃসাহস নয়—বরং বাধ্যবাধকতা।
কিন্তু আমরা এমন এক রাজনৈতিক-আবেগী সমাজে সাংবাদিকতা করি, যেখানে খালেদা জিয়ার জন্মসাল ১৯৪৫ না ১৯৪৬—এই প্রশ্ন তুললেই সাংবাদিককে গালাগালি শুনতে হয়, চরিত্রহননের শিকার হতে হয়, এমনকি “ষড়যন্ত্রকারী” তকমাও জুটে যায়।
প্রশ্নটি অত্যন্ত সাধারণ।
জন্মসাল যদি ১৯৪৫ হয়, তবে বয়স এক রকম।
আর যদি ১৯৪৬ হয়, তবে বয়স আরেক রকম।
তাহলে মৃত্যুকালে তিনি ৭৯ বছর বয়সী ছিলেন, না ৮০ বছর বয়সী ছিলেন—এই তথ্য জানাটা কি অপ্রয়োজনীয়? একজন সম্পাদক কি আন্দাজ করে বয়স লিখবেন? নাকি রাজনৈতিক ভক্তদের সন্তুষ্ট রাখতে ইচ্ছেমতো সংখ্যা বসাবেন?
এখানে প্রশ্ন ব্যক্তি নয়—প্রশ্ন পদ্ধতি। সম্মান দেখানোর নামে যদি তথ্য অস্পষ্ট বা গোপন করা হয়, তবে তা শ্রদ্ধা নয়—তা ইতিহাস বিকৃতি। আর তথ্য যাচাই করাকে যদি রাজনৈতিক শত্রুতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তবে সেটি গণতন্ত্র নয়—এটি জনতান্ত্রিক দাপট।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই চাপ ও গালাগালি সাংবাদিকতার বাইরের অজ্ঞ জনতার কাছ থেকে নয়; বরং আসছে রাজনৈতিক আনুগত্যে অন্ধ হয়ে যাওয়া এক শ্রেণির মানুষের কাছ থেকে, যারা মনে করে প্রশ্ন মানেই ষড়যন্ত্র।
আজ যদি জন্মতারিখ নিয়ে প্রশ্ন তোলা নিষিদ্ধ হয়,
কাল হয়তো চিকিৎসা, নির্বাচন, দুর্নীতি কিংবা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলা নিষিদ্ধ হবে।
তখন সাংবাদিক থাকবে শুধু প্রেস রিলিজ ছাপার কর্মচারী হয়ে।
সাংবাদিকতা কোনো দলের দালালি নয়।
এটা আবেগের সেবা নয়।
এটা ইতিহাসের কাছে দায়বদ্ধ একটি পেশা।
জন্মতারিখ নিয়ে প্রশ্ন তোলা যদি অপরাধ হয়,
তবে সমস্যা সাংবাদিকতায় নয়।