খুনি লে. কর্নেল হাসিনুরের (বরখাস্ত) মুখে গুম,খুনের বিচার দাবী, চরম ভণ্ডামি!

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশে মানবাধিকারের নামে নাটক নতুন নয়, কিন্তু যখন সেই নাটকের মুখ্য চরিত্র হয়ে ওঠে একজন প্রমাণিত খুনি ও দেশদ্রোহী কর্মকর্তা, তখন তা জাতির সঙ্গে এক অবমাননাকর পরিহাস ছাড়া আর কিছুই নয়। বরখাস্ত লে. কর্নেল হাসিনুর রহমান—যিনি র‍্যাবের পোশাক পরে একসময় অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছিলেন—আজ সেই ব্যক্তি গুম-খুনের বিচার দাবি করছেন! এ যেন নরপিশাচের মুখে মানবতার বুলি।

২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত র‍্যাবের বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের কমান্ডে থাকা এই হাসিনুর চট্টগ্রামভিত্তিক র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক ছিলেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW)-এর তথ্যমতে, শুধুমাত্র তাঁর অধীনস্থ সময়েই র‍্যাব-৭ এর হাতে সংঘটিত হয় ৫৭টি “ক্রসফায়ার” হত্যাকাণ্ড—যা সারা দেশের র‍্যাব অভিযানে নিহতদের ১৫.৫ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, হাসিনুর ছিলেন রক্তপাতের এক নির্মম পরিচালক।

২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রামের এক থানা সংলগ্ন স্থানে সন্দেহভাজন ১০ জনকে গুলি করে হত্যা, একই বছরের নভেম্বরে ছাত্রলীগ নেতা মহিমুদ্দিন মহিম ও ছাত্রদল নেতা ইকবাল বাহার চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের পর ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যা,এসব ঘটনার সবকিছুই ঘটেছে হাসিনুরের নেতৃত্বে। সেই সময়ের পত্রিকা, মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলো স্পষ্ট করে জানিয়েছে, র‍্যাবের হাতে তখন “ক্রসফায়ার” নামের এক নিষ্ঠুর বিচারবহির্ভূত হত্যাযজ্ঞ চলছিল, যার অন্যতম স্থপতি ছিলেন হাসিনুর নিজে।

এরপর সেনাবাহিনী থেকেও বরখাস্ত হন তিনি—দেশবিরোধী তৎপরতা ও বিদ্রোহমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রতি তাঁর আনুগত্য ছিল কেবল মুখের কথা।

আজ যখন এই খুনি ও বরখাস্ত অফিসার মানবাধিকারের কথা বলেন, তখন তা জনগণের চোখে এক জঘন্য ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই নয়। একজন ব্যক্তি, যার হাতে রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি, সে যখন মানবতার পতাকা তোলে, তখন তা হাস্যকর নয় বীভৎস।

লে. কর্নেল হাসিনুর রহমান গুম-খুনের বিচার নয়, বরং নিজের অতীত অপরাধের বিচারের মুখোমুখি হওয়াই এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশের মানুষ রক্তে রঞ্জিত এই ভণ্ড নাট্যকারের ভণ্ডামিতে আর বিভ্রান্ত হবে না।