গণভোট না জিতলে সরকার বৈধতা পাবে না ,গণভোটে হার নিশ্চিত হলেই নির্বাচন বানচালের শঙ্কা

লেখক: সুবির দে,
প্রকাশ: ২ মাস আগে

অনলাইন ডেস্ক :: দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত ও স্পর্শকাতর ইস্যু গণভোট ও নির্বাচন। উপরিভাগে এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মনে হলেও বাস্তবে এখন এই দুই বিষয় ক্ষমতার বৈধতা নির্ধারণের একমাত্র মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দিন দিন একটি বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে গণভোটে জয় ছাড়া বর্তমান সরকারের সাংবিধানিক বৈধতা প্রশ্নাতীতভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
এই কারণেই গণভোট কেবল একটি রাজনৈতিক ইভেন্ট নয়, বরং ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর জন্য অস্তিত্বের প্রশ্ন।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে, যেখানে যদি আগাম হিসাব-নিকাশ ও জরিপে বোঝা যায় যে গণভোটে জয় আসছে না, তখনই নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। তখন নির্বাচন আর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকে না তা হয়ে ওঠে পরিস্থিতি নির্ভর একটি সিদ্ধান্ত।
এই প্রেক্ষাপটে ইউনুস গোষ্ঠী, এনসিপি ও জামাতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, যা আর নিছক রাজনৈতিক অভিযোগে সীমাবদ্ধ নয়। কারণ গণভোট ব্যর্থ হলে শুধু একটি রাজনৈতিক পরাজয় হবে না; বরং
সংবিধান লঙ্ঘনের সঙ্গে যুক্ত বিচার বিভাগের শীর্ষ পর্যায়,
সেনা বাহিনীর উচ্চপদস্থ অংশ,
সিভিল সার্ভিস ও পুলিশ বাহিনীর সংশ্লিষ্ট মহল কারোরই দায়মুক্তির সুযোগ থাকবে না।
এই বাস্তবতাই ব্যাখ্যা করে কেন ইউনুস ও সেনা বাহিনীর প্রধানের সামনে কার্যত একটিই পথ খোলা—গণভোটকে যেকোনো মূল্যে সফল করা। গণভোটে জয় মানে কেবল রাজনৈতিক সাফল্য নয়; বরং অতীত ও বর্তমানের সব সাংবিধানিক প্রশ্নের ওপর একটি শক্ত ঢাল টেনে দেওয়া।
দেশজুড়ে যে অস্থিরতা, গুঞ্জন ও অনিশ্চয়তা চলছে, তার মূল এখানেই। প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক অঙ্ক কষা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে—
নির্বাচনের প্রায় দশ দিন আগে যদি জরিপ ও অভ্যন্তরীণ হিসাবে নিশ্চিত হওয়া যায় যে গণভোটে জয় আসছে, তবে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আর যদি বোঝা যায় যে গণভোটে পরাজয় অনিবার্য, তবে কোনো না কোনো অজুহাত, সংকট বা কৌশলে নির্বাচন বানচালের পথ বেছে নেওয়া হবে। সুশীল ও রাজনৈতিক মহলে এধরনের আলোচনা চলছে।
এই বাস্তবতা আমাদের সামনে একটি কঠিন কিন্তু অনিবার্য প্রশ্ন হাজির করে—
নির্বাচন কি সত্যিই জনগণের রায় জানার মাধ্যম, নাকি ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার কৌশল?
আজকের বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এই প্রশ্নের উত্তরের ওপরই নির্ভর করছে। জনগণ শুধু ভোট দিতে চায় না তারা চায় স্বচ্ছতা, সাংবিধানিক শাসন ও জবাবদিহি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এই দাবি যতই উপেক্ষা করার চেষ্টা করা হোক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত জনগণই দেয়।