গোপনে কোটি টাকার চুক্তি, টেন্ডার ছাড়াই চলছে ইউনুস সরকারের লোপাট নীতি

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত বিরল যেখানে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প গোপনে অনুমোদিত হচ্ছে, টেন্ডার ছাড়াই ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, আর সরকার নির্বিকার। ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আজ দুর্নীতি, অনিয়ম ও লোপাটের এক নতুন অধ্যায় রচনা করছে।

সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা, যা হওয়া উচিত স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার মডেল, তা এখন পরিণত হয়েছে স্বজনপ্রীতি ও ভাগাভাগির বাজারে। কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে “জরুরি প্রয়োজন” দেখিয়ে সরাসরি ঠিকাদার নিয়োগের যে প্রক্রিয়া চলছে, তা শুধু আইনবিরুদ্ধ নয়, এটি রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির প্রতি স্পষ্ট বিশ্বাসঘাতকতা। বিপিপিএ-র নির্দেশনা অনুযায়ী ৫০ লাখ টাকার বেশি প্রকল্পে উন্মুক্ত টেন্ডার আহ্বান বাধ্যতামূলক হলেও, ইউনুস সরকারের আমলে এই আইন এখন কাগজে বন্দি।

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্য বলছে প্রকল্প অনুমোদনের নামে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে অঘোষিতভাবে, প্রভাবশালী মহল নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারদের দিয়ে কাজ করাচ্ছে। সরকারের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত এর ছায়া পৌঁছেছে। এক সাবেক অর্থ সচিবের ভাষায়, “টেন্ডার ছাড়া প্রকল্প অনুমোদন মানে প্রশাসনিক সততা ও আইনের মৃত্যু,এটি দুর্নীতির বৈধতা দেওয়ার শামিল।”

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই অস্বচ্ছতা কেবল আর্থিক নয় এটি রাজনৈতিকও। ইউনুস সরকার যেভাবে প্রশাসনের ভেতরে স্বার্থের জাল বিস্তার করেছে, তা প্রমাণ করছে এই সরকার জবাবদিহির নয়, বরং নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সুবিধা রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত। উন্নয়নের নামে প্রকল্প হাতে নিচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে চলছে ভাগাভাগির খেলা।

সামাজিক মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলেছে—“জনগণের করের টাকায় প্রকল্প হলে গোপনীয়তা কেন? টেন্ডার ছাড়াই কারা পাচ্ছে কোটি টাকার চুক্তি?” এই প্রশ্নের উত্তর সরকার দিতে পারছে না, কারণ উত্তরের মধ্যেই লুকিয়ে আছে লুটেরাদের নাম।

আজ দেশের অর্থনীতি অস্থির, উন্নয়ন প্রকল্প ফাঁপা, আর জনগণের আস্থা তলানিতে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের এই লোপাট এখন যেন সরকারের অনুমোদিত নীতি একটি “ইউনুস মডেল অব গভর্নেন্স” যেখানে উন্নয়ন নয়, লুটপাটই প্রধান লক্ষ্য।

বাংলাদেশের ইতিহাসে দুর্নীতির নানা অধ্যায় লেখা হয়েছে, কিন্তু এমন প্রকাশ্য অস্বচ্ছতা, এমন নৈতিক দেউলিয়াত্ব আর কখনও দেখা যায়নি। প্রশ্ন এখন স্পষ্ট—ড. ইউনুসের সরকার কি জনগণের সরকার, নাকি দুর্নীতিবাজ চক্রের রক্ষাকবচ?