ঘুষ ছাড়া ফাইল চলে না, স্বীকৃতি বঞ্চিত ৫০০ প্রতিবন্ধী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার স্বীকৃতি আজও এক অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি। ২০১৮ সাল থেকে দেশের প্রায় ৫০০টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিভাবে স্বীকৃতির অপেক্ষায় আছে। রাষ্ট্রের “অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা”র অঙ্গীকার আজ যেন কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ যেখানে মানবিকতার চেয়ে প্রাধান্য পাচ্ছে দুর্নীতি ও প্রভাবের রাজনীতি।

শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তা ও উপদেষ্টা “মোটা অঙ্কের ঘুষ” ছাড়া কোনো ফাইল এগিয়ে নিচ্ছেন না। সমাজসেবা সচিবের ঘনিষ্ঠ একদল প্রভাবশালী কর্মকর্তা নাকি পুরো প্রক্রিয়াটিই নিয়ন্ত্রণ করছে। যারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের আবেদন বছরের পর বছর ধুলো জমে পড়ে থাকে অফিসের তাকেই।

এদিকে, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তহীনতা ও প্রশাসনিক স্থবিরতায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার অগ্রগতি কার্যত থমকে গেছে। যে শিশুরা সমাজের সবচেয়ে বেশি যত্ন পাওয়ার অধিকার রাখে, তাদের শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোই এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে।

শিক্ষকদের মাসের পর মাস বেতন নেই, শিক্ষার্থীরা থেরাপি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থেকে বঞ্চিত। অথচ এই স্কুলগুলো গ্রামীণ ও শহরতলির স্তরে অদম্যভাবে কাজ করে যাচ্ছে—বক্তব্যে নয়, কর্মে মানবতার পরিচয় দিচ্ছে প্রতিদিন।

একজন শিক্ষক ক্ষোভভরে বলেন,
আমরা মানুষের সন্তানদের মানুষ করতে চাই, কিন্তু আমাদের মানুষ হিসেবেও গণ্য করা হয় না।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী শিক্ষার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে নীতিগতভাবে উপেক্ষিত। সরকার নানা সময় ঘোষণা দিলেও, বাস্তবে কোনো প্রকৃত রোডম্যাপ নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, পাশাপাশি নিচুতলার ঘুষ-দুর্নীতির সংস্কৃতি—সব মিলিয়ে এই খাত আজ গভীর সংকটে।

এই অচলাবস্থা কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটি একটি নৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রতিচ্ছবি। যখন সমাজের সবচেয়ে অসহায় শিশুদের অধিকারও টাকার বিনিময়ে নির্ধারিত হয়, তখন মানবিক রাষ্ট্রের ধারণাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

স্বীকৃতিহীন এই ৫০০ স্কুল আজ রাষ্ট্রের দৃষ্টি নয়, সমাজের সহানুভূতিতেই টিকে আছে। অথচ সংবিধান, শিক্ষা নীতি ও জাতিসংঘ সনদ—সব জায়গাতেই বলা আছে, প্রতিটি শিশুই শিক্ষার সমান অধিকারী।

এখনই সময়, সরকারকে এই অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রতিবন্ধী শিক্ষাকে করুণা নয়, দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
অবিলম্বে স্কুলগুলোর স্বীকৃতি প্রদান এবং ঘুষ-নির্ভর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বন্ধ করতে না পারলে, এই অবহেলা শুধু প্রতিষ্ঠান নয়—একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎকেই অন্ধকারে ডুবিয়ে দেবে।