নিউজ ডেস্ক :: কক্সবাজারের চকরিয়া থানা হাজতে দুর্জয় চৌধুরী নামে ২৭ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ দাবি করছে এটি আত্মহত্যা, তবে স্থানীয়দের মতে এই মৃত্যু অত্যন্ত সন্দেহজনক এবং এর পেছনে বড় কোনো গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে।
দুর্জয় চৌধুরী চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম কমল চৌধুরী। দুর্জয় ছিলেন চকরিয়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে তিনি ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, নম্র ও সৎ মানুষ। এমন একজন মানুষের হঠাৎ থানা হাজতে মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে। পুলিশের দাবি, দুর্জয় হাজতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু স্থানীয়রা বলছেন, ছবিতে যেভাবে ফাঁসি দেখানো হয়েছে এবং গোটা ঘটনার ধরণই সন্দেহজনক। তাঁরা মনে করছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডও হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন—“ও এত নম্র ভদ্র যে, গ্রেপ্তারের মতো কোনো অপরাধ সে করতে পারে না। যদি কোনো অফিসিয়াল ত্রুটি থেকেও থাকে, তা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।”
জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—কোন মামলার ভিত্তিতে দুর্জয়কে গ্রেপ্তার করা হলো? কেন তাঁকে থানায় নেওয়া হয়েছিল? থানা হাজতের নিরাপত্তা ও নজরদারি থাকলে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটতে পারে? অনেকেই বলছেন, “হঠাৎ নিবে গেলে এক জলন্ত প্রদীপ। এটি আত্মহত্যা হতে পারে না। এই ঘটনার সঠিক জবাব দেবে কে?”
ঘটনার পর দুর্জয়ের পাড়ায় শোকের মাতম চলছে। সবাই তাঁকে স্মরণ করছেন নম্র, ভদ্র এবং সৎ হিসেবে। পরিবারের পক্ষ থেকেও দাবি উঠেছে যে, প্রশাসন যেন ঘটনার সঠিক তদন্ত করে সত্য উদ্ঘাটন করে। স্থানীয়দের মধ্যে একটাই দাবি—এটি শুধু একটি মৃত্যু নয়, এর পেছনে যদি কোনো ষড়যন্ত্র থাকে, তবে তা বের করে আনতে হবে।
চকরিয়া থানার পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় মানুষ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।