ডেস্ক রিপোর্ট | ঢাকা
৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার কথিত ‘জুলাই যোদ্ধা’ সুরভী অভিযোগ করেছেন, ওই অর্থের একটি বড় অংশ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে ভাগ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, নাহিদ ইসলাম তার কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা চাঁদার ভাগ নিয়েছেন।
সুরভীর ভাষ্য অনুযায়ী, কারাগার থেকে মুক্তির পর নাহিদ ইসলাম তাকে দেখতে যাওয়ার ঘটনাটি রাজনৈতিক সহানুভূতির চেয়ে বেশি ছিল প্রচারণা ও ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার দাবি, ১০ কোটি টাকা গ্রহণের কারণেই ওই সাক্ষাৎ।
এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সুরভীর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, আদর্শিক সহমর্মিতার আড়ালে একটি অর্থকেন্দ্রিক রাজনীতির চর্চা চলছিল।
৫০ কোটি টাকার ‘সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক’-এর দাবি
সুরভীর অভিযোগ এখানেই থেমে নেই। তার দাবি অনুযায়ী, গাজীপুরের ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক এবং এনএসপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা প্রত্যেকে ১০ কোটি টাকা করে ভাগ পেয়েছেন। সব মিলিয়ে এটি ছিল ৫০ কোটি টাকার একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক, যেখানে আদর্শ নয়, মুখ্য হয়ে উঠেছিল আর্থিক লাভ।
তবে যাদের নাম অভিযোগে উঠে এসেছে, তাদের অধিকাংশের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বা বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উঠছে একাধিক প্রশ্ন
এই অভিযোগের পর রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে—
এত বড় অঙ্কের অর্থের উৎস কী?
সংগঠনের ভেতরে এ বিষয়ে কেউ জানত কি না?
নাকি সবাই জানত, কিন্তু নীরব ছিল?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—‘যোদ্ধা আন্দোলন’ ও ‘নিপীড়ন’-এর মতো আবেগী শব্দকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অর্থনীতি গড়ে তোলার দাবি। রাজনীতিতে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়, তবে বিপ্লবী বয়ানের আড়ালে এমন অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন
অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্টদের একটি বড় অংশের নীরবতা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা হলে সাধারণত দ্রুত প্রতিবাদ আসে, আর অভিযোগে সত্যতার ওজন থাকলে নীরবতা সময় কেনার কৌশল হয়ে উঠতে পারে।
আদালতেই নির্ধারিত হবে সত্য
এই মামলার চূড়ান্ত সত্য নির্ধারণ করবে আদালত। তবে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই রাজনীতির নৈতিক আদালতে এক ধরনের ক্ষয়ের ইঙ্গিত মিলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অভিযোগ সত্য হলে এটি কেবল একজন ব্যক্তির অপরাধ নয়, বরং চাঁদাবাজিনির্ভর একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির নগ্ন চিত্র। আর অভিযোগ মিথ্যা হলে প্রশ্ন থেকেই যায়—এত বড় নাম জড়িয়ে এমন দাবি তোলার সাহস সুরভী পেলেন কোথা থেকে।
যেদিকেই সত্য যাক, একটি বিষয় স্পষ্ট—রাজনীতির নামে কোটি টাকার এই খেলায় সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস।