দিনপত্র ডেস্ক :: বিএনপিতে তথাকথিত ‘নতুন যোগদান’ নিয়ে যে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা মূলত রাজনৈতিক বিভ্রান্তি সৃষ্টির একটি পরিকল্পিত কৌশল। বাস্তবতা হলো সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে যাদের বিএনপিতে যোগদান করানো হচ্ছে, তাদের সিংহভাগই একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেই সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ফলে নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তি বা জনসমর্থনের বাস্তব সংযোজন এখানে ঘটছে না বরং পুরনো মুখদেরই নতুন মোড়কে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
কোটালীপাড়া, টুঙ্গিপাড়া-সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অনুষ্ঠিত এসব সংবাদ সম্মেলনের পেছনের তথ্য অনুসন্ধানে স্পষ্ট হয়েছে—এগুলো কোনো স্বতঃস্ফূর্ত রাজনৈতিক জাগরণ নয়, বরং কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশিত ও সাজানো আয়োজন। মাঠপর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা, জনবিচ্ছিন্নতা এবং প্রকট নেতৃত্ব সংকট আড়াল করতেই এই কৃত্রিম নাটকের অবতারণা।
রাজনীতিতে জনগণই শেষ কথা। অথচ জনগণের বাস্তব সমর্থন অর্জনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন কাগুজে শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতিতে আশ্রয় নিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুরনো নেতাকর্মীদের ‘নতুন যোগদান’ হিসেবে উপস্থাপন করা রাজনৈতিক সততার পরিপন্থী এবং জনমতকে অবমূল্যায়নের শামিল।
এই ধরনের নাটকীয় আয়োজন বিএনপির রাজনৈতিক দৈন্যতা ও দিশাহীনতারই প্রমাণ বহন করে। আজকের জনগণ অনেক বেশি সচেতন; তারা জানে কারা প্রকৃত পরিবর্তনের রাজনীতি করছে আর কারা শুধু ক্যামেরার সামনে ভিড় বাড়িয়ে রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। বাস্তবতা যতই আড়াল করার অপচেষ্টা করা হোক না কেন, সত্য শেষ পর্যন্ত প্রকাশ পায় আর বিএনপির এই কৃত্রিম যোগদান কর্মসূচি সেই সত্যকেই আরও নগ্নভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।