জাতির বিশ্বাসঘাতকতা ক্ষমার অযোগ্য,রাষ্ট্ররক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই একমাত্র পথ

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, সংবিধান ও গণতন্ত্রের প্রতি যেকোনো অবমাননা জাতির কাছে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এই দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে লাখো শহীদের রক্ত, অসংখ্য মায়ের অশ্রু ও ত্যাগের বিনিময়ে। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়—এটি গোটা জাতির অর্জন, যার সুরক্ষা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যখনই রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা, নির্বাচিত সরকার বা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ধ্বংসের অপচেষ্টা হয়েছে, তখনই জাতি ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে।

সম্প্রতি সেনাবাহিনীর একাংশের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ জাতিকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সংবিধান রক্ষার শপথ নেওয়া সেনাবাহিনীর কোনো সদস্য যদি বিদেশি নির্দেশ বা ব্যক্তিগত উচ্চাভিলাষে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, তবে তা নিঃসন্দেহে দেশদ্রোহিতা। সেনাবাহিনী বাংলাদেশের গর্বের প্রতিষ্ঠান—একটি বিশ্বাস ও মর্যাদার প্রতীক। সেটিকে যদি কেউ ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তবে তা শুধু প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়, গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য ভয়াবহ হুমকি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সামরিক হস্তক্ষেপ ও অবৈধ ক্ষমতা দখলের পরিণতি আমরা বহুবার দেখেছি। প্রতিবারই দেশ পিছিয়ে গেছে, গণতন্ত্র স্থবির হয়েছে, উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। ১৯৭১ সালে এই জাতি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিঁড়ে বেরিয়ে এসেছে। সেই দেশের মাটিতে আবার যদি ষড়যন্ত্রের বিষবীজ রোপণ করা হয়, তবে তা শহীদের আত্মত্যাগের প্রতি নির্মম অবমাননা। তাই আজকের বাংলাদেশে দেশবিরোধী যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া সময়ের দাবি।

রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে—এটি কেবল রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, এটি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার শর্ত। জনগণের আদালতই হবে সেই সর্বোচ্চ বিচারক, যেখান থেকে কোনো বিশ্বাসঘাতক রেহাই পাবে না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা মানে প্রতিশোধ নয়; বরং এটি সমাজে আইন, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের ভিত্তি সুদৃঢ় করা।

আজ বাংলাদেশের মাটি কেবল দেশপ্রেমিকদের জন্য—যারা সংবিধান মানে, গণতন্ত্র রক্ষা করে, জনগণের কল্যাণে কাজ করে। যারা বিদেশি স্বার্থে দেশের ক্ষতি করে, যারা রাষ্ট্রের ভিত দুর্বল করে, তারা ইতিহাসে চিরকাল কলঙ্কিত হয়। তাদের সাময়িক শক্তি থাকতে পারে, কিন্তু ইতিহাসের বিচারে তারা চিহ্নিত বিশ্বাসঘাতক হিসেবেই পরিগণিত হবে।

বাংলাদেশ এখন এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দেশের স্বাধীনতা, সংবিধান ও গণতন্ত্রকে অক্ষুণ্ণ রাখতে হলে কেবল সরকারের নয়, জনগণেরও ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই আজ প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের দায়িত্ব। কারণ এই দেশের অস্তিত্ব, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ—সবকিছুর ভিত্তিই গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সংবিধানের প্রতি আনুগত্যে নিহিত।

ন্যায়বিচারের দাবি আজ শুধু রাজনীতির প্রশ্ন নয়; এটি জাতির আত্মপরিচয় রক্ষার প্রশ্ন। সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সত্য উদ্ঘাটনের, ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের এবং স্বাধীনতার চেতনাকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠার। কারণ, বাংলাদেশের জনগণ কখনোই দেশদ্রোহীদের ক্ষমা করে না—তারা ইতিহাস গড়ে, আর বিশ্বাসঘাতকদের ইতিহাসের পাতায় চিরদিনের জন্য নির্বাসিত করে দেয়।