জাতীয় গৃহায়নের চেয়ারম্যান পদায়নকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে প্রশাসন উত্তপ্ত

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদায়নকে ঘিরে আবারও তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি—গৃহায়ন অধিদপ্তরের চেয়ারম্যান পদে নতুন নিয়োগকে কেন্দ্র করে অস্বচ্ছ তদবির, আর্থিক লেনদেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র জানায়, বর্তমান ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (গ্রেড–১) এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ড. মোঃ মাহমুদ হাসানকে জাতীয় গৃহায়নের চেয়ারম্যান পদে বসানোর জন্য কয়েকটি গোষ্ঠী সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। তাঁকে নিয়ে অভিযোগ—দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে বিভিন্ন সময় তদবির বাণিজ্যে জড়িত থাকার গুঞ্জন একাধিক মহলে প্রচারিত হয়েছে। কিছু সূত্র তাঁকে “শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা” হিসেবে।

গুঞ্জন অনুযায়ী, চাহিদাসম্পন্ন এই পদটি পেতে নেপথ্যে কোটি কোটি টাকার লেনদেন। সূত্র দাবি করছে—প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর পর্যন্ত এই বদলি তদবিরের লেনদেন হয়েছে ।

গৃহায়নের চেয়ারম্যান পদে প্রজ্ঞাপন জারির আগে প্রেস সচিব শফিক আলমের নামে একজন দুই কোটি টাকা নিয়েছে এছাড়াও এনসিপির নেতা সারজিস আলম, হাসানাত, নাহিদ ইসলাম ও তাবাচ্ছুম —এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত।

এই কর্মকর্তা চেয়ারম্যান পথদে যোগদানের পর এনসিপির এই নেতাদেরকে এক কোটি টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রতি রয়েছে।

প্রশাসনিক মহলের আরেক সূত্র জানায়, গৃহায়নের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর যোগদানের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ন “৪ কোটি টাকা নগদ অফার” দিয়েছে গৃহায়ন উপদেষ্টা ও সচিবকে । সূত্রের দাবি— চার কোটি টাকা অফারের পর আগামী বৃহস্পতিবার গৃহায়ন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান ও সচিব নজরুল ইসলামের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে এই নিয়োগ সম্পর্কিত চূড়ান্ত আলোচনা হবে যোগদান পত্র গ্রহন করার কথা।

বর্তমান ইউনুস সরকারের আমলে প্রশাসনে বদলি বানিজ্য লেনদেনের অভিযোগ থাকলে ও কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না।

মোটা অংকের বিনিময়ে বদলি ঐটাকা উঠাতে দুর্নীতির আখড়া তৈরি হয়েছে বিভিন্ন দপ্তরে।

প্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে—
এ ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আসার মূল কারণ হলো পদায়ন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার ঘাটতি। ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর ছত্রচ্ছায়ায় কোনো ব্যক্তি বা মহল প্রভাব বিস্তার করলে তা গোটা প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্বল করে দেয়।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব নির্ধারণ অবশ্যই ন্যায়ের মানদণ্ডে, স্বচ্ছতার আলোকে ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হতে হবে—এই দাবি এখন আরও জোরালো।

বিশ্লেষকরা মনে করেন ,এভাবে নিয়োগ বদলী পদোন্নতিতে ঘুষ লেনদেন ও দুর্নীতি চলতে থাকলে আবারো দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান হবে বাংলাদেশ।