জান্নাতের ঠিকাদারি পেয়েছে জামাতের নেতারা কে যাবে, কে যাবে না—ফরম পূরণ চলছে

লেখক: সুবির দে,
প্রকাশ: ২ মাস আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: একসময় জান্নাত ছিল আল্লাহর রহমতের বিষয়—ইমান, আমল আর নিয়তের সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন জান্নাতও নাকি ঠিকাদারির আওতায়। আর সেই ঠিকাদারি নিয়েছেন—কিছু স্বঘোষিত ধর্মব্যবসায়ী নেতা। নাউযুবিল্লা।
এদের ভাষায়, মুসলমান মানে কেবল মুসলমান হওয়া নয়; সঠিক দলে থাকা জরুরি। নামাজ পড়লেও চলবে না, রোজা রাখলেও সন্দেহ আছে—যদি দলীয় সিল না থাকে। ঈমান এখন ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি দলীয় অনুমোদনসাপেক্ষ।
কে জান্নাতে যাবে—সে সিদ্ধান্ত আর আল্লাহর একচ্ছত্র এখতিয়ার বলে মনে হয় না। তালিকা তৈরি হচ্ছে সভা-সমাবেশে, বাছাই হচ্ছে মাইকে দেওয়া স্লোগানে। কেউ প্রশ্ন করলে বলা হয়, “আমরা ইসলাম বাঁচাচ্ছি।” অথচ প্রশ্নটা থেকেই যায়—ইসলাম কি এতটাই অসহায় যে তাকে বাঁচাতে ঠিকাদার লাগে?
এই জান্নাত ঠিকাদারির সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো—এটি মানুষকে আল্লাহর কাছ থেকে সরিয়ে নেতার পেছনে দাঁড় করায়। মানুষ আল্লাহকে ভয় না পেয়ে দলকে ভয় পায়। গুনাহ মাফের আশা করা হয় তওবায় নয়, আনুগত্যে।
ইতিহাস বলে, ধর্ম যখন দলীয় সম্পত্তিতে পরিণত হয়, তখন প্রথমে হারায় বিনয়, পরে হারায় ন্যায়বোধ। আর শেষে ধর্ম নিজেই হয়ে ওঠে ক্ষমতার হাতিয়ার।
এই প্রবন্ধ কোনো বিশ্বাসকে আঘাত করার জন্য নয়। বরং সেই বিশ্বাসকে রক্ষা করার জন্য—যে বিশ্বাস বলে, জান্নাত কোনো দলের সদর দপ্তরে সংরক্ষিত নয়। জান্নাত কোনো রাজনৈতিক ঘোষণায় বণ্টন করা যায় না। জান্নাতের চাবি কোনো নেতার পকেটে থাকে না।
আল্লাহ এক। রহমত তাঁর। বিচারও তাঁর।
বাকিটা ঠিকাদারি নয়—