জামায়াত ইসলামের শীর্ষ নেতৃত্বে নারী নিষিদ্ধ, নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি সম্মানজনক নয়, অথচ নারীর ভোট পেতে মরিয়া

লেখক: সুবির দে,
প্রকাশ: ২ মাস আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি দীর্ঘমেয়াদীভাবে সীমিত, পিতৃতান্ত্রিক এবং সমানাধিকারের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দলের আমির আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে বলেছেন, নারীরা দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারলেও জামাত‑এ‑ইসলামির শীর্ষ নেতৃত্বে কোনো স্থান নেই, এবং সেখানে নারীরা কখনো নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে পারবেন না।

তার যুক্তি অনুযায়ী নারীরা গর্ভধারণ ও সন্তান লালন‑পালনের কারণে দলীয় শীর্ষ পদে অযোগ্য। যদিও এই যুক্তি বিতর্কিত এবং সমালোচিত, এটি স্পষ্টভাবে দেখায় যে দলের নীতি নারীর ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সীমিত।
বাস্তবে, দল শীর্ষ নেতৃত্বে নারীদের গ্রহণযোগ্যতা দেয় না, ভোটে নারী প্রার্থী মনোনয়ন করে না এবং নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে **“জৈবিক পার্থক্য”**কে কেন্দ্র করে সীমিত রাখে। এর ফলে নারীর নেতৃত্বের সম্ভাবনা কার্যত বন্ধ থাকে। অন্যদিকে, দলের নারীর ভোট সংগ্রহে আগ্রহী হওয়া তাদের দ্বৈত মানদণ্ডকে প্রকাশ করে: ভোটে নারীর গুরুত্বকে স্বীকার করা হলেও, নারীর নেতৃত্ব ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই।
এই অবস্থার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায় যে জামায়াতে ইসলামী দলের নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি শুধুমাত্র সম্মানজনক নয়; বরং সীমিত, পার্থক্যমূলক এবং পিতৃতান্ত্রিক। ইসলামের মৌলিক শিক্ষায় নারী-পুরুষ সমানাধিকার থাকা সত্ত্বেও দলটি নারীর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ক্ষমতাকে স্বীকার করে না।

তাই নারীদের উচিত জামায়াতের প্রার্থী বয়কট করা এবং সক্রিয়ভাবে সমানাধিকার, নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সচেতন থাকা।

নারীর ভোটের গুরুত্ব বোঝার পাশাপাশি তাদের নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য।