জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন: মানবতার মুখে জুলাই ফাউন্ডেশনের কালিমা

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: একটি প্রতিষ্ঠানের সত্যিকার শক্তি তার মানবিকতা ও ন্যায়বোধে নিহিত। কিন্তু যখন সেই প্রতিষ্ঠানেই অন্যায়ের ছায়া ঢুকে পড়ে, তখন তা কেবল একটি সংগঠন নয় সমগ্র সমাজের নৈতিক অবস্থাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে। সম্প্রতি জুলাই ফাউন্ডেশনে “জিজ্ঞাসাবাদের” নামে আহত কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ঠিক এমনই এক মর্মান্তিক দৃষ্টান্ত।

মানবসেবা, দারিদ্র্য বিমোচন ও শিক্ষায় সহায়তার জন্য পরিচিত জুলাই ফাউন্ডেশন আজ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে—কিন্তু ইতিবাচক কোনো কারণে নয়, বরং অমানবিক আচরণের অভিযোগে। যে সংগঠন একসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াত, আজ সেই সংগঠনের ভেতরেই মানুষ আহত হচ্ছে, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে—এ এক গভীর পরিহাস।

সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদ মানে নির্যাতন নয়।” বক্তারা দাবি করেন, জুলাই ফাউন্ডেশনের অভ্যন্তরীণ তদন্ত বা জিজ্ঞাসাবাদের নামে যেভাবে কর্মীদের ওপর চাপ প্রয়োগ ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অমানবিক। তারা বলেন, এই ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যতে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এমন আচরণকে বৈধ মনে করবে—যা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ন্যায়ের পরিপন্থী।

মানবাধিকারের মূল দর্শন আমাদের শেখায় মানুষের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা শুধু রাষ্ট্রের নয়, প্রতিটি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়। অথচ আজ দেখা যাচ্ছে, জবাবদিহি বা অনুসন্ধানের নামে অনেক জায়গাতেই “জিজ্ঞাসাবাদ” পরিণত হচ্ছে ভয়, অপমান ও নির্যাতনের সমার্থক শব্দে। এই প্রবণতা কেবল ভুক্তভোগী নয়, গোটা সমাজের মানবিক চেতনার ওপর এক গভীর কালিমা এঁকে দিচ্ছে।

জুলাই ফাউন্ডেশনের এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় মানবতার মুখ আজ ক্লান্ত, আহত ও অবমানিত। যে প্রতিষ্ঠান মানবতার কথা বলার দায়িত্ব নেয়, তার ভেতরেই যদি মানবাধিকারের লঙ্ঘন ঘটে, তবে সেটি কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; এটি নৈতিক পতনের স্পষ্ট প্রতিফলন।

এখন প্রয়োজন সাহসী আত্মসমালোচনা এবং স্বচ্ছ তদন্ত। আহতদের চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে অবিলম্বে। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সমাজে এ বার্তা যাবে যে, ক্ষমতাবানদের অন্যায়ও দায়মুক্ত—যা মানবিক মূল্যবোধের সম্পূর্ণ বিপরীত।

সমাজ যদি সত্যিই মানবিক হতে চায়, তবে নির্যাতনের সংস্কৃতি ভাঙতে হবে এখান থেকেই। জিজ্ঞাসাবাদ হোক তথ্য জানার উপায়, ভয় দেখানোর অস্ত্র নয়। জুলাই ফাউন্ডেশনের এই ঘটনাই হোক এক নতুন প্রতিজ্ঞার সূচনা যেখানে ন্যায়বিচার ও সহমর্মিতাই হবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মূল নীতি।