নিউজ ডেস্ক :: ২০২৪ সালের জুলাই থেকে আগস্ট বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়। কোটার দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন মুহূর্তেই রূপ নেয় রক্তাক্ত রাজনৈতিক সন্ত্রাসে। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে শত শত মানুষের প্রাণহানি, অগ্নিসংযোগ, পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যাকাণ্ড—সব মিলিয়ে এ সময়কালকে অনেকেই বলছেন, “রক্তঝরা জুলাই–আগস্ট”।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট দুপুরে দেশ ত্যাগের পর থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশে যে সহিংসতার বিস্ফোরণ ঘটে, তা পরিকল্পিত না হলে এমন সমন্বিত অস্থিরতা সম্ভব নয়। বিভিন্ন সূত্রে দেখা গেছে, ৫ আগস্টে ১০৮ ও ৬ আগস্টে ১০৭ জন নিহত অর্থাৎ ২১৫ জন। পরের দিনগুলিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনটারন্যাশনালে আগুনে পুড়ে ২৪ জন, পুলিশের সদর দফতরে নিহত ৪৪ জন, এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ৮৭ জনের প্রাণহানির হিসাব মেলালে দেখা যায়, নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩৭০ জন। এটি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক সংঘর্ষ নয় এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত মেটিকুলাস ডিজাইন।
অভিযোগের আঙুল উঠছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপি ও জামায়াতের দিকে। বলা হচ্ছে, তাদের ছত্রছায়ায় বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ও পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনযেমন লস্কর-ই-তৈয়বা ও জঈশ-ই-মুহাম্মদ বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ছক কষে। অনলাইন প্রোপাগান্ডা, ভুয়া সংবাদ, বিদেশি অর্থায়ন সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার সরকার পতনের অপারেশন পরিচালিত হয়েছে “অদৃশ্য নেটওয়ার্ক” এর মাধ্যমে। এমন অভিযোগের পক্ষে কিছু তথ্যও উঠে এসেছে, যেমন অনলাইন অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার, ভিডিও প্রমাণ ও অস্ত্রের ক্যালিবার বিশ্লেষণ। তবে এখনো এসবের স্বাধীন, নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ হয়নি তাই এগুলোকে চূড়ান্ত সত্য বলা যাবে না।
এই প্রেক্ষাপটে একটি প্রশ্ন স্পষ্টভাবে উঠে আসে এই রক্তপাতের দায় কার?
যতই রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকুক, এত মানুষের প্রাণহানি কোনো আন্দোলনের যৌক্তিক পরিণতি হতে পারে না। কেউ যদি পরিকল্পিতভাবে এমন হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে থাকে, তাহলে তাকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে কিন্তু আইনি ও প্রমাণনির্ভর প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই। প্রতিশোধ নয়, প্রয়োজন বিচার ক্রোধ নয়, প্রয়োজন ন্যায়ের শাসন।
আজকের বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন তদন্ত কমিশন।
যেখানে থাকবে
ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও হাসপাতালের রেকর্ডের যাচাই,
ফরেনসিকভাবে অস্ত্রের উৎস ও অর্থপ্রবাহ শনাক্তকরণ,
প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ,
বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রমাণ পেলে কূটনৈতিক পদক্ষেপ।
সত্য যদি প্রকাশিত হয়, তবে বিচার হবে আইন অনুযায়ী; আর যদি কোনো অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তাহলেও জাতি সত্য জানবে এটাই গণতন্ত্রের শক্তি।
শেখ হাসিনা জুলাই আগস্টের সেই রক্তাক্ত সময়েও যে ধৈর্য, সংযম ও নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন তা প্রশংসনীয়। তিনি প্রতিশোধ নয়, আইনের পথ বেছে নিয়েছেন। এখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব এই পথে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলা।
বাংলাদেশ কারো পরীক্ষাগার নয়।
এদেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধকে বিদেশি গোয়েন্দা, ভাড়াটে বিশৃঙ্খলাকারী বা ডিজিটাল প্রোপাগান্ডার হাতে জিম্মি করা যাবে না।
আমরা চাই না আর কোনো “রক্তঝরা আগস্ট” ফিরে আসুক।
ন্যায়ের পথেই হোক শান্তির প্রত্যাবর্তন প্রতিশোধ নয়, বিচারের হাতেই হোক মুক্তি।