দিনপত্র ডেস্ক :: জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত পুলিশ হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস–এর বিরুদ্ধে আগাম ধারণা থাকার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক কালের কণ্ঠ–এর একটি টকশোতে শামীম হায়দার পাটোয়ারী দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর যে পুলিশ হত্যা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে, তা আকস্মিক ছিল না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ড. ইউনূস এ ধরনের পরিস্থিতি সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত ছিলেন এবং রাজনৈতিক দায় এড়াতে দেরিতে দেশে ফেরেন। তবে এ বিষয়ে ড. ইউনূস বা তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার ঠাকুরগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেটা বলেছেন, সেটাই হবে। তদন্ত হয়েছে, প্রয়োজন হলে আবারও তদন্ত হবে। বিষয়গুলো যেহেতু আদালতে আছে, আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলবে।” তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া
পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জুলাইয়ের সহিংসতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা আশা করছেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা রাজনৈতিক বক্তব্যে যেতে চাই না। আমাদের সহকর্মীরা প্রাণ হারিয়েছেন। নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারই আমাদের প্রত্যাশা।” আরেকজন কর্মকর্তা জানান, চলমান তদন্ত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-প্রমাণ আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
দায়-দায়িত্বের প্রশ্নে নজর তদন্তে
জুলাইয়ের সহিংসতার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা ও একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় দায়-দায়িত্ব নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে তদন্তের অগ্রগতি ও বিচারিক প্রক্রিয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সংবেদনশীল ঘটনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আদালত ও তদন্ত সংস্থার ওপর। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে পারলে তবেই বিতর্কের অবসান ঘটতে পারে।