নিউজ ডেস্ক :: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসন কেবল একটি তাত্ত্বিক ধারণা নয়—এটি রাষ্ট্রের নৈতিক শক্তির মাপকাঠি। সম্প্রতি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) আইনের আওতায় কিছু সাবেক ও বর্তমান সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে: রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনকালে নেওয়া কোনো পদক্ষেপ কি ব্যক্তিগত অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে?
রাষ্ট্র পরিচালনায় সেনাবাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তারা সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত। এই দায়িত্ব পালনের সময় তাদের অনেক সিদ্ধান্তই তাৎক্ষণিক, এবং কখনও কখনও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংবেদনশীল হয়। কিন্তু যখন এমন কোনো সিদ্ধান্তের কারণে মামলা বা তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়, তখন বিষয়টি শুধু ব্যক্তি নয় রাষ্ট্রীয় কাঠামোর নৈতিক ও আইনি ভারসাম্যকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা সামরিক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন আবশ্যক। এই বিধান শুধু সুরক্ষা নয়, বরং দায়িত্ব ও জবাবদিহির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার এক সাংবিধানিক কাঠামো। অন্যদিকে ICT আইন, যা মূলত ডিজিটাল মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বা উসকানিমূলক কার্যক্রম প্রতিরোধের জন্য প্রণীত, সেটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখা জরুরি।
প্রশ্ন হলো—যদি কোনো সেনা কর্মকর্তা রাষ্ট্রের বৈধ নির্দেশ পালনের সময় কোনো সিদ্ধান্ত নেন, সেটি কি ব্যক্তিগত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে? এবং যদি সেই সিদ্ধান্তের পরিণতি বিতর্কিত হয়, তাহলে দায় কার—ব্যক্তির, না রাষ্ট্রীয় নীতির?
এই দ্বন্দ্বের সমাধান একমাত্র আইনের মাধ্যমে সম্ভব যেখানে থাকবে স্বচ্ছ তদন্ত, প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণ, এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচারিক প্রক্রিয়া। কারণ, আইন সবার জন্য সমান হলেও তার প্রয়োগে ন্যায়বিচারই নির্ধারণ করে রাষ্ট্রের প্রকৃত নৈতিক শক্তি।
একটি প্রবাদ আছে ন্যায়বিচার বিলম্বিত হওয়া মানে ন্যায়বিচার অস্বীকার করা।” একইভাবে, ন্যায়বিচার যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রয়োগ করা হয়, তবে সেটি ন্যায় নয়, প্রতিশোধ। তাই রাষ্ট্রের কর্তব্য যে ট্রাইব্যুনালই গঠিত হোক, সেখানে যেন ন্যায়বিচার হয়, বিচারহীনতা নয়।