নিউজ ডেস্ক :: ডা. ইউনুসের আমলে চট্টগ্রামে সাড়ে ৯ মাসে ১৪৪ খুন সাম্প্রতিক সময়ে চট্রগ্রামে অর্থনৈতিক বিরোধ, জায়গাজমি নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক কলহ, মাদক বিক্রি, আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক ঘটনায় একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নগরী ও জেলায় খুন হয়েছেন ১৪৪ জন।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে ৫৩টি খুনের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে, জেলার বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে ৯১টি। মহানগর ও জেলা পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১২ তারিখ লোহাগাড়ায় জায়গাজমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে চাচাতো ভাইয়ের হাতে খুন হন ব্যবসায়ী শাহ আলম। ৭ সেপ্টেম্বর বাকলিয়ায় দই বিক্রির দাম নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে সাজন মিয়া নামের একজন খুন হন। গত ৩০ আগস্ট বায়েজিদ বোস্তামী থানার হিলভিউ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের বিরোধে খুন করা হয়েছে আবদুল্লাহ আল মনির নামে একজনকে। এই মাসের প্রথম ১৪ দিনে আটটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় বেশির ভাগ আসামি গ্রেপ্তার করা হলেও কিছু মামলার আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে ।
জুলাই মাসের ২৫ তারিখ বাকলিয়া এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে মহিউদ্দিন (৪৫) নামের একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ৬ জুলাই রাউজানে ঈশানভট্রের হাটে বোরকা পরে আসা একদল দুর্বৃত্ত রাজনৈতিক বিরোধের কারণে গুলি করে হত্যা করে যুবদল কর্মী মুহাম্মদ সেলিমকে। এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর উঠে আসে রায়হান নামে এক সন্ত্রাসীর নাম।
যার নামে ছয়টি হত্যাসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। সে এখনো রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জের ধরে রাউজানে খুনের ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ সেলিম খুনের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রায়হানকে ধরার চেষ্টা চলছে। শ্যামলী আইডিয়াল পলিটেকনিকের শিক্ষার্থী সাব্বির হত্যাকারী কিশোর গ্যাং সদস্যদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে সম্প্রতি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন করেছেন স্বজন এবং এলাকাবাসী। এ সময় তাঁরা অভিযোগ করেন, সাব্বির হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি আতাউল, বিজয়, রাফসানসহ অন্য আসামিরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাঘুরি করছে। কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না।এ ছাড়া চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, রাউজান, চট্টগ্রাম নগরীতে ঘটে যাওয়া হতাকাণ্ডের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্বজনরা।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ) রইস উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জুলাই মাস থেকে আগস্ট মাসে চট্টগ্রাম নগরীতে খুনের ঘটনা কম ঘটেছে। আগস্টে তিনটি খুনের মামলা হয়েছে। বেশির ভাগ খুন আর্থিক ঝামেলা, মাদকসংক্রান্ত বিষয়, পারিবারিক সহিংসতার কারণে ঘটছে। মানুষ দিন দিন অসহিষ্ণু হয়ে যাচ্ছে। পারিবারিক ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া থেকে খুন পর্যন্ত করে ফেলছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল বলেন, ‘খুনের ঘটনায় জড়িত আসামিদের মধ্যে বেশির ভাগকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।’
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চট্টগ্রামের সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশি অবনতির কারণে এসব ঘটনা ঘটছে। দুর্বৃত্ত বা খুনিরা মনে করছে, খুন করলে পার পেয়ে যাবে। সুতরাং আমরা আশা করব, যারা এই ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল, তারা তাদের দায়িত্বের ক্ষেত্রে আরো আন্তরিক হবে।’