নিউজ ডেস্ক :: দেশজুড়ে আজ এক অস্বস্তিকর নীরব বিস্ফোরণ চলছে—যা ধীরে ধীরে জনরোষে রূপ নিচ্ছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনুস, যিনি এক সময় দরিদ্রের ত্রাণকর্তা ও ক্ষুদ্রঋণের পথিকৃৎ হিসেবে বিশ্বজোড়া খ্যাতি পেয়েছিলেন, এখন সেই দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষেরই ক্ষোভের নিশানায়। সারাদেশে তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অসন্তোষ ও ক্ষোভ যেন অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
এই জনরোষ কোনো রাজনৈতিক সীমারেখায় আটকে নেই। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী বা সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও আজ ক্ষুব্ধ—বিশেষত যারা ইউনুস সরকারের সিদ্ধান্ত ও অর্থনৈতিক নীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নানা স্থানে বিক্ষুব্ধ জনগণ বলছে, “যে প্রতিষ্ঠান আমাদের জীবন কেড়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানই পুড়িয়ে দিতে হবে।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তীব্র প্রতিক্রিয়া, কেউ কেউ প্রকাশ্যে প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে নানা কারণ। ড. ইউনুসের উপদেষ্টা পরিষদের বিতর্কিত ভূমিকা, প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো, দুর্নীতির অভিযোগ ও কর্মসংস্থানের সংকট—সব মিলিয়ে মানুষের আস্থার ভিত্তি ধসে পড়েছে। যে মানুষ একসময় দরিদ্রের ভরসা ছিলেন, এখন তিনি সাধারণ মানুষের চোখে বিতর্কিত ক্ষমতার প্রতীক।
বর্তমানে ইউনুসের অধীনে থাকা ৪২টি প্রতিষ্ঠান—গ্রামীণ ব্যাংক, গ্রামীণফোন, গ্রামীণ ট্রাস্টসহ—সবই এখন আশঙ্কার মুখে। অনেকেই মনে করছেন, ইউনুস ক্ষমতায় থাকাকালীন এই প্রতিষ্ঠানগুলো তার প্রভাবের বলয়ে নিরাপদ ছিল; কিন্তু ক্ষমতার পালাবদল ঘটলে এগুলো জনগণের মালিকানায় বা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে যেতে পারে।
তবে সমাজে প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচারই হওয়া উচিত চূড়ান্ত পথ। ইউনুসের বিরুদ্ধে ক্ষোভকে যদি দায়মুক্ত প্রতিশোধে পরিণত করা হয়, তবে তা কেবল ব্যক্তি নয়—রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতাকেও হুমকিতে ফেলবে। আজ দরকার সত্য উদঘাটন, দোষীদের জবাবদিহি এবং জনআস্থার পুনর্গঠন। কারণ ন্যায়বিচার যখন থেমে যায়, তখনই জনরোষ আগুনে রূপ নেয়।