নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ত, তাঁদের আত্মত্যাগ ও ত্যাগস্বীকার। সেই আত্মত্যাগের ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছে আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্র। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো আজ সেই মুক্তিযোদ্ধারাই অবমাননার শিকার হচ্ছেন, আর তা ঘটছে রাষ্ট্রের নীরব সমর্থন কিংবা সরাসরি নিষ্ঠুর ব্যবস্থার মাধ্যমে।
সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের মৃত্যুকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি আমাদের জাতীয় বিবেককে আহত করেছে। কারাগারে অমানবিক নির্যাতন, চিকিৎসাবঞ্চনা এবং মৃত্যুর পরও তাঁর হাতে হাতকড়া পরিয়ে রাখা এসব শুধু একজন ব্যক্তির নয়, সমগ্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অপমান।
এরপরও অপমান থেমে থাকেনি। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে তাঁকে। নরসিংদীতে জানাজায় প্রশাসনের অযৌক্তিক কড়াকড়ি, মাইক বন্ধ করে দেওয়া, এমনকি পরিবারের প্রতি হুমকি—যেন মুক্তিযোদ্ধার প্রতি নয়, সমগ্র জাতির প্রতি চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিয়েছে, প্রশাসন জনগণের সেবক নয়; বরং অবৈধ শাসকের হাতিয়ার।
এই ঘটনাই প্রমাণ করে, ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকার মুক্তিযোদ্ধাবিরোধী ও জনগণবিরোধী। এটি কেবল একটি অবিচার নয়; এটি মানবাধিকারের নগ্ন লঙ্ঘন, রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তিকে ধ্বংস করার চেষ্টাও বটে। মুক্তিযোদ্ধার অসম্মান মানে জাতির সম্মানহানি, আর সেটিই ঘটছে পরিকল্পিতভাবে।
আজ নরসিংদীসহ দেশের সর্বস্তরে একটাই দাবি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এসপি, ডিসি, ইউএনওর কঠোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রকে অবিলম্বে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দিতে হবে।
বাংলাদেশ রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশ। মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মান করা মানে জাতিকে অসম্মান করা। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা পদদলিত করে কোনো শাসন টেকেনি, ভবিষ্যতেও টিকবে না।
এই অবিচারের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলাই আজকের সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।