নিউজ ডেস্ক ::বিদ্যুৎ খাত দীর্ঘদিন ধরেই নানা দুর্বলতা, আর্থিক সংকট ও নীতিগত অসঙ্গতির ভার বহন করে এসেছে। কিন্তু ইউনুস সরকারের সময়ে খাতটিকে ঘিরে নতুন মাত্রার অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, যা বিদ্যুৎ সংকটকে আরও প্রকট করে তুলছে। ইতোমধ্যেই ভর্তুকি বৃদ্ধির বোঝা, উৎপাদন ব্যয়ের লাগামহীন বৃদ্ধি এবং পিডিবির ক্রমবর্ধমান ঘাটতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছিল—এ অবস্থায় সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও অনুমোদনকে কেন্দ্র করে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সমালোচকদের দাবি, নীতি প্রণয়ন ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় অস্বচ্ছতা এবং কিছু অস্বাভাবিক চুক্তি বিদ্যুৎ খাতে অস্থিরতার পরিমাণ আরও বাড়িয়েছে। ফলে যে খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার কথা ছিল, সেখানে বরং নতুন জটিলতা যুক্ত হয়েছে।
বিদেশি কোম্পানির পাওনা পরিশোধ করা হলেও অভ্যন্তরীণ প্রতিষ্ঠানগুলোর বকেয়া অমীমাংসিত থাকা, জ্বালানি আমদানির অনিশ্চয়তা দূর না হওয়া এবং নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্প সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো অগ্রগতি না দেখানো—এসবই এক অস্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার প্রতিচ্ছবি বলে মনে করা হচ্ছে। সমালোচকদের অভিযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অদক্ষতা এবং জবাবদিহির অভাবের সুযোগে বিদ্যুৎ খাতের বাণিজ্যিক চক্রগুলো আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠছে, যেখানে জনস্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ও ব্যক্তিগত লাভকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু চুক্তি ও নিয়োগ নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা না পাওয়া আবারও সরকারের অবস্থানকে বিতর্কিত করছে। ফলে বিদ্যুৎ খাতের পুরোনো সমস্যা যেমন রয়েছে, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি নতুন সংকট—অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আস্থা সংকট।
বিদ্যুৎ খাতের এই অস্থিরতা কেবল উৎপাদন বা সরবরাহে চাপ বাড়াচ্ছে না; এটি পুরো খাতের নীতি-ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। সাধারণ নাগরিক থেকে বিনিয়োগকারী—সবাই ভাবছে, বিদ্যুৎ খাত আসলে কোন দিকে যাচ্ছে এবং এই অনিশ্চয়তার শেষ কোথায়। যে খাত একসময় উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো, এখন সেটিই রাজনৈতিক বিতর্ক, আর্থিক সংকট ও অনিয়মের ভারে ক্রমশ ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ছে। ইউনুস সরকারের সময় বিদ্যুৎ খাতে যোগ হওয়া এই নতুন সমস্যাগুলো—সত্য হোক বা অভিযোগ—সমাজে যে অস্থিরতা ও সংশয় সৃষ্টি করেছে, তা দুঃসহ বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।