ড. ইউনুস সরকারের নীতিতে কর্মসংস্থান ধ্বংস, জঙ্গি নেটওয়ার্কের উত্থান

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে, সমাজে অস্থিরতা বাড়ছে, আর নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে জঙ্গি তৎপরতা

আমেরিকা ও জাতিসংঘনির্ভর ড. ইউনুস সরকার আজ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চরম ভঙ্গুর অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে। এক সময় যে দেশ ছিল স্বনির্ভরতার পথে অগ্রসর, আজ সেই দেশ পরিণত হয়েছে বেকারত্বের মেলায়। কোটি কোটি মানুষ দিশেহারা—আয় রোজগার কমেছে, দারিদ্রতা ঘাড়ে চেপে বসেছে। ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেনার ভারে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। উদ্যোক্তারা হারাচ্ছেন আস্থা, বিনিয়োগকারীরা ফিরিয়ে নিচ্ছেন পুঁজি।

দেশের শ্রমবাজারে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার কালো ছায়া। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগও দিন দিন সীমিত হয়ে পড়ছে বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশিদের ভিসা বন্ধ বা কঠোর করে দিয়েছে। অথচ এই অভিবাসনই ছিল দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস। এতে নতুন করে তৈরি হয়েছে অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক অস্থিরতা।

অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নিরাপত্তা হুমকি। দেশে এখন জঙ্গিবাদ ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ এক ধরনের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যে জানা যায়, সিরিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধের জন্য গোপনে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে আর এতে যুক্ত হচ্ছে ধর্মীয় উগ্রপন্থী জেহাদি সংগঠনগুলো। তারা দেশের অভ্যন্তরে নেটওয়ার্ক বিস্তারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংঘাতে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে বাংলাদেশ জঙ্গি দেশের তালিকায় স্থান পাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ও অর্থনীতিকে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর গোপন সম্পৃক্ততা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তারা বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছে। এর ফলে শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাই নয়, বরং গোটা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়েছে।

অর্থনীতি ও নিরাপত্তা দুই দিকেই আজ বাংলাদেশ এক ভয়াবহ সঙ্কটের মুখোমুখি। আইএমএফের শর্তে পরিচালিত বর্তমান সরকারের নীতি দেশকে আত্মনির্ভরতার বদলে ঋণনির্ভরতার ফাঁদে ফেলেছে। কর্মসংস্থান ধ্বংস হচ্ছে, বিনিয়োগে স্থবিরতা, শিল্পোন্নয়নে পতন, আর তার সঙ্গে বেড়ে চলেছে বৈষম্য ও সামাজিক হতাশা।

বাংলাদেশের আজকের চ্যালেঞ্জ শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি একসাথে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিতও। জাতির ভবিষ্যৎ রক্ষায় প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য, সুশাসন ও স্বচ্ছ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা। জঙ্গিবাদ দমন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই হতে পারে স্থিতিশীলতার প্রথম ধাপ। বিদেশি শর্তের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হয়ে দেশীয় সক্ষমতা ও শ্রমশক্তির উপর নির্ভর করলেই বাংলাদেশ পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

কারণ একটি রাষ্ট্র তখনই টিকে থাকে, যখন তার জনগণ কর্মে, অর্থে এবং বিশ্বাসে শক্তিশালী থাকে আর সেই শক্তির বিকল্প কোনো বিদেশি ঋণ নয়, বরং নিজের জনগণের শ্রম ও আত্মবিশ্বাস।